
পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ ঘটানোর দাবি আইএসের
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ ঘটানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামি স্টেট-আইএস।
বুধবার সকালের দিকে ঘটা এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এক টুইটার পোস্টে জানানো হয়, পল্লবী থানায় হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
জঙ্গি হুমকি ও হামলার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েসসাইটটির পরিচালক রিটা ক্যাটজের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টেও এক পোস্টে বিষয়টি দাবী করা হয়।
এদিন রাত ৮.৪৬ টায় এক টুইটে রিটা কাটজ জানান, আইএস বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি পুলিশ সদর দপ্তরে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ২০১৯ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশে আইএসের প্রথম হামলা বলে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ শনাক্ত করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আহতরা হলেন- পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান (৪৮), উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব (৩০) পিএসআই অঙ্কুশ (২৮) ও রুমি (২৮) এবং রিয়াজ নামে একজন সাধারণ ব্যক্তি (সিভিলিয়ান)।
আহতদের দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও আরেকজনকে চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ পরিদর্শক ইমরানের ডান হাত, বাম পা, বাম হাতে আঘাত পান। তিনি চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। এছাড়া এসআই সজিবও টিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।
রিয়াজ বাম হাত, ডান হাত ও নাভীর নিচে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা রুমি এবং রিয়াজ ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসাধীন আছেন। চোখে আঘাত পেয়ে পিএসআই অঙ্কুশ চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনজন সন্ত্রাসী আটক করার সময় দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ডিজিটাল ওয়েট মেশিনসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় আজ সকালে ডিউটি অফিসারের রুমে থাকা মালামালগুলোর মধ্যে থেকে বিকট শব্দে ওয়েট মেশিনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা চার পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন থানায় আসা সাধারণ মানুষ আহত হন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণে থানার ডিউটি অফিসারের রুমের জানালা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্কাতের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড অনুসরণ এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডির ক্রাইমসিন আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাড়ায় খাটা সন্ত্রাসীরা কাউকে মারার জন্য ওয়েট মেশিনে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে জানতে পেরেছেন।
ঢাকা মহারগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টিমের পাশাপাশি সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল টিমও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করছেন।
তবে পুলিশের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।❑
1)BREAKING: #ISIS claims attack in #Bangladesh, targeting a police headquarters in capital #Dhaka. Marks the group's 1st attack in the city since Aug. 2019 & comes amid an attack surge as part of the 4th wave of its "Battle of Attrition" campaign, in lead up to #EidAlAdha. pic.twitter.com/om03BcOS4w
— Rita Katz (@Rita_Katz) July 29, 2020



