যুক্তরাষ্ট্র

পরাজিত হলে আদালত চত্বরেই দিন কাটবে ট্রাম্পের

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে আদালত চত্বরেই কাটবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিন। বহু মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য আদালতপাড়ার এ বাড়ি-ও বাড়ি ঘুরতে ঘুরতে জুতোর তলা ক্ষয়ে যাবে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে একরোখা এই প্রেসিডেন্টের।

কারণ, সব কিছুতেই গোঁয়ার্তুমি আর চারিত্রিক দুর্বলতার কারণে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে ২৬টি নারী কেলেংকারি মামলা, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল না করা, আর্থিক প্রতারণাসহ অনেক দুর্নীতির মামলায় ভারি হয়ে উঠেছে আদালত।

আছে নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে ব্যবহার করার মতো কয়েকটি অভিযোগও। এসব মামলা বর্তমানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বলে আটকে রেখেছেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনে হেরে গেলে যখন আর প্রেসিডেন্ট থাকবেন না, তখন নতুন করে ফণা তুলবে এসব মামলা। প্রেসিডেন্ট বলে ভয়ে আর হাত গুটিয়ে থাকবে না বাদীরাও। রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশুবিপদের এ অশনি সংকেত সামনে আনল সিএনএন। একেবারে অলৌকিক কিছু না ঘটলে এবারের এ নির্বাচনে কপাল পুড়তে পারে ট্রাম্পের। সে পূর্বাভাসই দিচ্ছে মার্কিন নির্বাচনের ভোটধামাকা জরিপ।

জনমত জরিপগুলো বলছে, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সব জরিপেই ট্রাম্পের চেয়ে গড়ে অন্তত নয় পয়েন্ট এগিয়ে আছেন বাইডেন। সুতরাং পরাজয় নিশ্চিত। আর এমন হলে ঝিমিয়ে পড়া মামলাগুলো সব দল বেঁধে ঝাপিয়ে পড়বে ট্রাম্পের ঘাড়ে। শান্তিতে ঘরেও থাকতে পারবেন না, আবার দেশও ছাড়তে পারবেন না।

আদালত চত্বরগুলোই হবে তার সারাদিনের সঙ্গী। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে অন্তত ২৬টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় ওইসব নারীকে হয়রানি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব নারীর মধ্যে আছেন সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই জিন ক্যারোল। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।

ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেয়া ও কর ফাঁকির অভিযোগের মতো মামলাগুলো ‘প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি ও প্রেসিডেন্ট কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়’- সংবিধানের এসব ধারা কাজে লাগিয়ে থামিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে যৌন নির্যাতন ও হয়রানির মতো অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে বাদীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াই করার মতো সাহস না রাখলেও ক্ষমতা হারিয়ে যখন সাধারণ নাগরিকের হবেন, তখন তারা বসে থাকবেন না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বেশির ভাগ সাধারণ অভিযোগকারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এমন দিনেরই অপেক্ষা করছেন।

ম্যানহ্যাটনের সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর হ্যারি স্যান্ডিক বলেন, আদালত তাকে তলবের অধিকার রাখে না বলে বর্তমানে দাবি করে থাকেন ট্রাম্প।

কিন্তু ক্ষমতার মেয়াদ শেষে সে পরিস্থিতি থাকছে না। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েল পরামর্শ দিয়েছেন, প্রেসিডেন্সিয়াল ক্রাইম কমিশন নামে একটি কমিশন গঠন করে ট্রাম্পের অনিয়ম, অপরাধ ও তার মামলাগুলো পর্যালোচনা করার জন্য। এরিক বলেন, ‘আমি এটি হালকাভাবে বলছি না।

হয়তো এসব হিসাব-নিকেশ থেকেই হেরে গেলে দেশ ছাড়তে হবে বলে নিজের সম্পর্কে এখন থেকেই ব্যঙ্গ উক্তি শুরু করেছেন ট্রাম্প। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকোনে নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লসিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প জোকস করে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে দেশ ছেড়ে যেতে হতে পারে।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension