ভারত

পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে পাল্টাপাল্টির রাজনীতি

দিন কয়েক আগের কথা। পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে এসে শান্তিনিকেতন দেখে অমিত শাহ মধ্যাহ্নভোজ সারেন বাসুদেব দাস বাউলের বাড়িতে। সেখানে বাসুদেব দাস তাকে শোনান, ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব ছেড়ে দেব না’। এর পাল্টা হিসেবে বোলপুরের ডাকবাংলো মাঠে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চেও বাউল গান হলো। সেখানে গাওয়া হলো, ‘বারে বারে আর আসা হবে না’। এটা হলো তৃণমূলের পাল্টা। পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে এই পাল্টাপাল্টির রাজনীতি। আজ তৃণমূল যা করছে, কাল বিজেপি সেটাই করছে। আবার বিজেপি যা করছে, তার পাল্টা করছে তৃণমূল।

পাল্টাপাল্টির অঙ্গ হিসেবে বাসুদেব বাউলকে নিয়েও টানাটানি চলছে। অমিত শাহ তার বাড়িতে খেয়ে যাওয়ার পর বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল তার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন। অমিত শাহ বোলপুরে রোড শো করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও করবেন আজ। সেখানেও বাসুদেব বাউলের থাকার কথা।

একই ঘটনা ঘটছে নন্দীগ্রাম দিবস নিয়েও। প্রতি বছর আন্দোলনে মৃতদের স্মরণে ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম দিবস পালন করে তৃণমূল। কিন্তু মমতা গত কয়েক বছর ওইদিন নন্দীগ্রাম যান নি। শুভেন্দু অধিকারী যেতেন। এবার মমতা যাবেন। সেখানে প্রচুর লোক আনতে চাইছে তৃণমূল। যাতে অমিত শাহর সভার থেকে বড় সভা করা যায়। আর ৭ জানুয়ারি মমতা সভা করে চলে যাওয়ার পরের দিন নন্দীগ্রামে হবে বিজেপির সভা। সেখানে প্রধান বক্তা শুভেন্দু অধিকারী। এখানে তৃণমূলের পাল্টা দিচ্ছে বিজেপি।

পাল্টাপাল্টির রাজনীতির মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ভাষণে এখন হামেশাই উঠে আসছে রবীন্দ্রনাথের কথা। তার কবিতা বা গানের লাইন। বিশ্বভারতীর শতবর্ষ অনুষ্ঠানে মোদি বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের বড়দা সত্যেন্দ্রনাথ’ গুজরাটে ছিলেন। তারপরই তৃণমূলের পাল্টা, রবীন্দ্রনাথের মেজদাকে কী করে সারাক্ষণ বড়দা বলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী? বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন, মমতা কেন শতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন না? আসলে রাজনীতির সূত্রে শতবর্ষের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন তিনি অনুপস্থিত? তৃণমূলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি।

যদিও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দাবী করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমনকি সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুর পরিবার সংক্রান্ত তথ্যের ভুল ধরেছেন। এভাবেই কেন্দ্র ও রাজ্যসরকারের চাপানউতোরে ভরপুর ছিল বিশ্বভারতীর শতবর্ষ পালনের অনুষ্ঠান।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension