আন্তর্জাতিক

উৎপত্তি নিয়ে নতুন করে রাজনীতি

কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী সার্স-কভ-২ ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে নতুন করে রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভাইরাসটি চীনের একটি ল্যাবরেটরি থেকে বের হয়েছে এমন ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের প্রতি জোর দিচ্ছেন অনেকে।

ভাইরাসটির উৎস এখনো অজানা হওয়ার কারণেই এমন তত্ত্ব বারবার সামনে আসছে। উহানের যে ল্যাবরেটরির কথা হচ্ছে, সেই ল্যাবরেটরিতে রয়েছে লেভেল ৪ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (ডব্লিউআইভি) ছাড়াও উহানে আরও দুটি বড় ল্যাবরেটরি আছে। ওই ল্যাবরেটরিগুলোতেও করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছে।

ডব্লিউআইভি র‌্যাটজি১৩ ভাইরাসের কাছাকাছি অপর একটি ভাইরাস সার্স-কভ-২-এর জেনেটিক কোড বের করে। বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসটিই নভেল করোনাভাইরাসের জন্য দায়ী, যদিও এই নিশ্চয়তার হার ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ডব্লিউআইভির তিন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় মহামারী শুরু হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে। ওই তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পুরো বিষয়টি জানে। কিন্তু সংস্থাটি চীন সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপরই ভরসা করছে। চীন সরকার বলছে, উহানের তিনটি ল্যাবের কর্মীদের শরীরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু কারও শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায় নি।

এ ছাড়া আরও একটি বিষয় সমালোচকদের দৃষ্টিতে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ লাগে। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর দ্য উহান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন তাদের ল্যাবরেটরি উহানে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে চীন সরকার বলছে, ল্যাবের অপারেশন যাতে নির্বিঘেœ চলতে পারে তাই ল্যাবটিকে স্থানান্তর করা হয়। এটাও উল্লেখযোগ্য যে, ল্যাবটি যে স্থানে নিয়ে আসা হয়, তার ঠিক পাশেই হুনান সীফুড মার্কেট অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, এই মার্কেট থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। এক ব্যক্তির শরীরে কভিডের উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঠিক ছয় দিন আগে ল্যাবটি স্থানান্তর করা হয়।

উপরোক্ত তিন ঘটনার কারণেই মূলত উহান থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এমন আশঙ্কা জেঁকে বসেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিএনএনকে জানায়, উহান থেকেই যে ভাইরাসের উৎপত্তি এমন সম্ভাবনা তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত নিরেট কোনো প্রমাণ পাওয়া না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো সমাধানে আসা সম্ভব হচ্ছে না। আর করোনার উৎস নিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপ ও ধোঁয়াশায় আছে ডব্লিউএইচও। কারণ সংস্থাটির পশ্চিমা অর্থদাতারা চাপে রেখেছেন সংস্থাটির প্রধানকে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনার উৎস সম্পর্কে হয়তো এক বা একাধিক দেশের সরকার জানে। কিন্তু এই তথ্য এতটাই গোপনীয় যে তা কোনো দিন বের হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। চীন কোনো কিছু লুকাচ্ছে, এ কথা বিশ্বের জনগণকে দেওয়া হলে মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তকারী দল উহানে একাধিকবার গিয়েছিল উৎস সন্ধানে। প্রতিবারই দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্যই চীন সরকার দিতে অপারগতা জানিয়েছে। বারবার ওই দলটি আরও তথ্যের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension