ভারতে ‘নিলামে’ মুসলিম নারীদের ‘বিক্রির’ বিজ্ঞাপন!
ভারতে ‘শালি ডিলস’ নামের একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের ছবিসহ প্রোফাইল তৈরি ও প্রকাশ করে নিলামের বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে!
অ্যাপটিতে যেসব নারীকে নিলামে তোলা হয়েছে, তারা সবাই মুসলিম এবং অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। তাদের প্রায় সবাই পেশায় সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, শিল্পী বা গবেষক।
গত কয়েক সপ্তাহে ওই অ্যাপে অন্তত ৮৩ জন মুসলিম নারীর ছবি দিয়ে তাদের ‘বিক্রির আয়োজন’ করা করা হয়। খবর বিবিসি।
জানা গেছে, ‘শালি ডিলস’ নামের একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে নারীদের বিশেষায়িত করা হয়েছে ‘ডিলস অফ দ্য ডে’ বলে।
বিক্রির তালিকায় রয়েছেন হানা খান নামের এক নারী, যিনি পেশায় বাণিজ্যিক বিমানচালক। গত কয়েক দিন ধরে আত্মীয়-পরিজন-বন্ধুরা একের মেসেজ করে চলেছেন হানা খানকে। সঙ্গে ট্যাগ করা নেটমাধ্যমের একটি পোস্ট। সেখানে হানার ছবি আপলোড করে তাকে বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়েছে!
Although I was targeted because I was a Muslim voice, this outrage is for every woman attacked.
We as women must come together to protect our own.
Of all the women I spoke to last few days. Everyone stood with us in solidarity.
Women. You are love. You are the future. ♥️— Hana Mohsin Khan | هناء (@girlpilot_) July 9, 2021
হানার মতো সেই তালিকায় ছাত্রী, সমাজকর্মী এমনকি, সাংবাদিকেরও নাম এবং ছবি রয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে টুইটারে দেয়া তাদের ব্যক্তিগত তথ্য।
হানা বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য অবমাননার উদ্দেশ্যেই এমন কাজ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়।’
তিনি জানান, ওই ওয়েবসাইটে প্রায় ২০ দিন ধরে তার ছবি ও টুইটারে দেয়া তথ্য ছিল। তার কথায়, ‘আমি প্রথমে বিষয়টি জানতেও পারিনি। আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।’
এরপর পুলিশে অভিযোগ জানান হানা। টুইট করে বিষয়টি সামনেও আনেন।
এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন দিল্লির সাংবাদিক ফাতিমা খানও। ২০২০ সালে দিল্লি সহিংসতার অনেক খবর প্রকাশ্যে এনেছিলেন ফাতিমা।
পুলিশকে তিনি বলেছেন, তার ধারণা সে কারণেই তাকে নিশানা করা হয়েছে।
নেটমাধ্যমে সক্রিয় এসব মুসলিম নারী বিভিন্ন সময় নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অপরাধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাই নিছক ‘যৌন বিনোদন’ নয়, পুরো ঘটনার পেছনে ‘অন্য উদ্দেশ্য’ রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, ‘জিটহ্যাব’ নামে একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই অ্যাপটি কার্যকর করা হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তারা দ্রুত সেটি বন্ধ করে দেয়।
কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হাসিবা আমিনের দাবি, একটি জাল আইডির সাহায্যে ওই অ্যাপটি বানানো হয়েছিল। এর আগে গত ১৩ মে একই ভাবে নেটমাধ্যমে বেছে বেছে মুসলিম নারীদের ছবি দিয়ে নিলামের ডাক দেয়া হয়েছিল।



