বিনোদন

পরীমণির বিশেষ সাক্ষাৎকার

ইচ্ছা থাকলেও বাড়িওয়ালা ও অন্যান্য ফ্ল্যটের বাসিন্দাদের অনুরোধে বাসায় ক্যামেরাসহ সাংবাদিক না ঢোকার অনুরোধ করেছেন চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি। একাত্তর টেলিভিশনের সঙ্গে এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে পরীমণি বলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পূর্বাপর। সাক্ষাৎকার একাত্তর টিভির সিনিয়র রিপোর্টার বুলবুল আহমেদ জয়। একাত্তর টিভির সৌজন্যে সাক্ষাৎকারটি এখানে প্রকাশিত হলো।


বাসায় সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়ে পরীমণি বলেন, সেই শুরু থেকে সাত বছর একা বনানীর এই বাড়িতে আছি আমি। এই বাড়ির সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে। আমি সেভাবেই চলাফেরা করেছি।

তিনি বলেন, কেউ আমার দিকে আঙুল তুলতে পারবে না। এই বাসায় আমার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, একটা মানুষও কিছু বলতে পারবে না। আমি কখনো উগ্রভাবে চলি নি। কেউ বলতে পারবে না আমার বাসায় রাত-বিরাতে মানুষ এসেছে। তারপরও নানারকম কথাবার্তা হয়েছে আমাকে নিয়ে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য আমার জান ফেটে যাচ্ছে। কত কি যে হয়েছে, এগুলা না বলে তো আমি মরতে পারি না। কিন্তু বাসার পরিবেশ নষ্ট হবে বলে আপনাদের ডাকতে পারছি না। এখানকার বাসিন্দারা আমার নানুর কাছে অনুরোধ করেছে, প্রেস ব্রিফিং বা কনফারেন্স কিছু করলে সেটা যেন অন্য কোথাও করা হয়।

বাসা বদল সম্পর্কে পরীমণি বলেন, আমি এই বাসা বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, পুরো দেশের মানুষ আমার এই বাসার ঠিকানা জানে। এটা তো হতে পারে না। কেউ তো তার সব আত্মীয়-স্বজনকেও বাসার ঠিকানা দেয় না। কতরকম মানসিকতার মানুষ আছে। আমি নিরাপদ বোধ করছি না। কিভাবে এই বাসায় থাকি বলেন?

৫ আগস্ট অভিযান পরিচালনার আগে লাইভে আসা প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, মানুষ কিছু না বুঝেই বলছে, ক্লিভেজ দেখিয়ে লাইভে এসেছে পরীমণি। কই এতদিন তো আমি এভাবে ঠুস করে লাইভে আসি নি, এবার কেন আসলাম? আসলে এটা ফ্রাস্ট্রেটেড জাতি। কিন্তু সত্য তো সত্যই। সত্য সবথেকে সুন্দর। সত্যই হচ্ছে শক্তি। এর বাহিরে কিচ্ছু নাই।

২.
আটকের পর থেকে মুক্তি পর্যন্ত ২৭ দিন একটা দুঃস্বপ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন আলোচিত পরীমণি।

এসময় তিনি বলেন, ওগুলা একটা ভুলভাল স্বপ্ন ছিল। একটা দুঃস্বপ্ন ছিল ২৭ দিন।

আটক থাকা অবস্থায় তার সম্পর্কে সামাজিকমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানামুখী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পরীমণি বলেন, মানুষের তো রক্তগরম। একটু কিছু হলেই কিসব করে ফেলে, বলে ফেলে। তবে আমার সাথে এখন আর কোনকিছু করেই লাভ নেই। যা করার মিডিয়া করে ফেলছে। আমার তো সবকিছু খুঁজে বের করেছে। আর কিছু বাকি নেই।

সামাজিকমাধ্যম ও গণমাধ্যমের এই প্রবণতা তার ওপর টর্চার বলে মন্তব্য করেছেন এই পরীমণি।

এসময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মিডিয়া আমার চুলা, আমার বেডরুম পর্যন্ত দেখিয়েছে। বেডরুম একটা প্রাইভেট জায়গা। অথচ বেডরুমের টয়লেট পর্যন্ত দেখিয়ে দিয়েছে। কি করার আছে আমার? আমার কিচ্ছু করার নাই।

এরকম পরিস্থিতিতেও তার মানসিক দৃঢ়তা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। কিভাবে এত শক্ত হলেন পরীমণি?

এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলেছে আমি এত স্ট্রং কিভাবে হলাম। আমি যদি কিছু করে থাকি তাহলে না আমি দুর্বল থাকব। আমি তো দুর্বল হওয়ার মতো কিছু করি নি। কেন আমি মাথা নত করব?

এ সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী পরীমণি জানান, আমার ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমার সাথে এসব চলবে না, চলে না। আমি মাথা নত করব না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension