বিনোদন

যে ভুলের কারণে বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে টম ক্রুজের ‘ডিগার’

পর্দায় টম ক্রুজ মানেই চোখের পলকে উড়ন্ত প্লেন থেকে লাফ, অবিশ্বাস্য সব স্টান্ট আর বক্স অফিসে কোটি কোটি ডলারের ঝড়। কিন্তু এবার সব হিসাব-নিকাশ এক নিমিষে ওলট-পালট করে দিল তার নতুন সিনেমা ‘ডিগার’।

অস্কারজয়ী পরিচালক আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর পরিচালনায় পরিবেশবিষয়ক এই স্যাটায়ার ছবিটি বক্স অফিসে এসে যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেটের পাশাপাশি আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রচারণায় ঢালার পরও বিশ্বব্যাপী ছবিটির ৩ দিনের আয় মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলার।

বিনোদন দুনিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডেডলাইন’-এর হিসাব অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থা ওয়ার্নার ব্রাদার্সের লোকসানের অঙ্ক গিয়ে ঠেকতে পারে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারে।

কিন্তু যে ছবিতে খোদ টম ক্রুজের মতো মেগাস্টার আর রিজ আহমেদ বা সান্ড্রা হুলারের মতো একঝাঁক বাঘা বাঘা অভিনেতা রয়েছেন, সেটি কেন দর্শক টানতে এমন চরমভাবে ব্যর্থ হলো—তা নিয়ে এখন হলিউড পাড়ায় তোলপাড়।

এই বাণিজ্যিক বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সিনেমা বিশ্লেষকেরা আঙুল তুলছেন টম ক্রুজের পরিচিত অ্যাকশন ইমেজের আকস্মিক পরিবর্তনের দিকে।

দর্শক থিয়েটারে গিয়ে টম ক্রুজকে প্রথাগত সুদর্শন নায়ক বা টানটান উত্তেজনার স্টান্টম্যান হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। অথচ এই সিনেমায় ভারী মেকআপ, কৃত্রিম প্রস্থেটিক্স আর ঝুলন্ত মেদযুক্ত পেটের আড়ালে ঢেকে ফেলা হয়েছিল অভিনেতার চেনা রূপকে।

সিনেমায় গ্রিনল্যান্ডে নিজের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা এক খামখেয়ালী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ক্রুজের এই অনভ্যস্ত ও অদ্ভুত রূপান্তর ভক্তরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি, যা তাদের সিনেমা হল বিমুখ করার অন্যতম বড় কারণ।

মূলত তারকা অভিনেতারা যখন নিজেদের চেনা গণ্ডি ছেড়ে এ ধরনের অতিরিক্ত পরীক্ষামূলক সিনেমায় ঝুঁকতে যান, তখন সাধারণ দর্শকের সঙ্গে একটি বড় ধরনের বিচ্ছেদ ঘটে। বিনোদন জগতে এই ঝুঁকি নতুন নয়; অতীতে সালমান খানের ‘টিউবলাইট’ কিংবা শাহরুখ খানের ‘ফ্যান’ সিনেমার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছিল।

‘ডিগার’ সিনেমায় ক্রুজ হয়তো অভিনয়ে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ না থাকায় দর্শকেরা সিনেমাটির সঙ্গে একদমই সংযোগ করতে পারেননি।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল প্রযোজনা সংস্থার গোলমেলে মার্কেটিং কৌশল এবং সিনেমার জটিল উপস্থাপনা।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রথমে সিনেমাটিকে একটি উচ্চমার্গের গম্ভীর শিল্পকর্ম হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে, কিন্তু দর্শক প্রতিক্রিয়া ঠান্ডা দেখে তড়িঘড়ি করে প্রচারণার ধরন বদলে সাধারণ বাণিজ্যিক ধাঁচে আনার চেষ্টা করে। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই দর্শকদের মনে সংশয় তৈরি করে।

অন্যদিকে, হাস্যরসের আড়ালে সমাজকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত নীতিশিক্ষামূলক উপস্থাপন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ গল্পের কারণে ছবিটি তার নিজস্ব গতি হারিয়ে ফেলে। ফলে সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক ব্যর্থতার খেতাব নিয়ে বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ার পথে ‘ডিগার’।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension