
ঘূর্ণিঝড় আইডা: আমেরিকায় বন্যায় মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও টর্নেডোর প্রকোপে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬১ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ।
এখনও পর্যন্ত উত্তর -পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের কারণে অন্তত ৪৮ জন মারা গেছে। সামগ্রিকভাবে আইডার আঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটটি রাজ্যে কমপক্ষে ৬১ জন মারা গেছে।
পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই পরিবেশগত নানা বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটি এই বিপর্যয়কে ‘জীবন-মৃত্যুর সঙ্কট’ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোাগ মোকাবেলায় ‘ঐতিহাসিক বিনিয়োগ’ প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গনমাধ্যমগুলো নিউ ইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সির বৃষ্টিপাতকে অভূতপূর্ব মাত্রা বলে উল্লেখ করেছে। সেসব অঞ্চলের অনেক বাসিন্দাই পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। চারটি অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মার্ফি জানিয়েছেন, রাজ্যটিতে অন্তত ২৩ জন মারা গেছেন – যাদের অধিকাংশই পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে মারা গেছেন।
নিউ ইয়র্ক শহরে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন ভবনের বেজমেন্টে পানিবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।
পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় তিনজন মারা গেছেন, কানেটিকাটে মারা গেছেন একজন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই হারে ঝড় হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা, তা এখনো পরিস্কার না হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়লে তার আশেপাশের বাতাস উষ্ণতর হয়ে ওঠে এবং হারিকেন, সাইক্লোন ও টাইফুন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ এই ধরণের দুর্যোগের সাথে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়। তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিপাতের ফলে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ ছিল এবং কিছু অংশে সাবওয়ে চলাচলও বন্ধ ছিল। কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় গাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং গাড়ির ভেতর থেকে সাহায্যের চিৎকারও শোনা যাচ্ছিল। কোনো কোনো জায়গায় বাস, ট্রেনের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থাকতে হয়েছে।



