
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ লাগামহীন হয়ে পড়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, লাগামহীন হয়ে পড়েছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এবং তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর খেলাপি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর বিপরীতে ২০২০ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই যে, খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঢালাও সুবিধা দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ কমছে না কেন। করোনার কারণে গত বছরও ঋণ পরিশোধে ছাড় ছিল। সে বছর যে অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল, তার মাত্র ১৫ শতাংশ পরিশোধ করার পর কাউকে খেলাপি করা হয়নি। অথচ এরপরও খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যা বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়ে লাভ নেই। তারা ঋণ পরিশোধ করবেন না, উলটো একের পর এক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পার পেয়ে যাবেন। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কেস-টু-কেস সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যেহেতু কেউ মানছে না, তাই এসব নির্দেশনা দিয়ে লাভ নেই। নির্দেশনা না দিয়ে বরং ভালো হয় ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হলে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। তার এসব কথা আমলে নেওয়া দরকার বলে মনে করি আমরা।
দেশে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংক খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আমরা মনে করি, সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে এমন নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন জরুরি, যার মাধ্যমে ব্যাংকের ভালো গ্রাহকরা হবেন পুরস্কৃত এবং খারাপ গ্রাহক তথা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা হবেন তিরস্কৃত ও দণ্ডিত।
