
বীরভূম গণহত্যাকাণ্ড তদন্ত করবে সিবিআই
বীরভূমের রাজনৈতিক গণহত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
বীরভূমের রামপুরহাটের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি শ্রী বাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার সকালে এ রায় দেন।
এর মধ্য দিয়ে কার্যত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের প্রশাসন বড়সড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল।
গত সোমবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে আনুমানিক দেড়শ কিলোমিটার দূরে বীরভূম জেলার রামপুরহাট বগতুই গ্রামের একটি ঘরে আটকে নারী ও শিশুসহ সাতজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।
এ ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়, এমনকি এ ঘটনার তদন্তের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা নেই অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকজন আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে পৃথক পৃথক পিটিশন দায়ের করেন।
এই পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো। এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, সিবিআইয়ের তদন্তে রাজ্য সরকার এবং তাদের দল সবরকম সহযোগিতা করবে। যেহেতু অতীতে সিবিআইকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে কারণে সিবিআইয়ের তদন্তে নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘সিবিআই ও ইডি (ডিরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্ট) বিজেপির দুই ভাই। তাই তাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত আমরা আশা করছি না।’
এদিকে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট কলকাতা হাইকোর্টের এ নির্দেশনায় খুশি। বিজেপি রাজ্য সভাপতি ডক্টর সুকান্ত মজুমদার হাইকোর্টের রায়ে সঠিক বিচার পাবেন ক্ষতিগ্রস্তরা–এমনটাই দাবি করেছেন। দেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও এ নির্দেশনাকে স্বাগত জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে ভাদু শেখ নামের স্থানীয় একজন তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েতের উপপ্রধান খুন হওয়ার পর তাদের অনুগামী তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা একটি গ্রামে চড়াও হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেন। এমনকি সন্দেহভাজন খুনি বলে আখ্যায়িত করে একটি পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশুসহ সাতজনকে ঘরবন্দি করে আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করতে বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামে পৌঁছান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারেরও নির্দেশ দেন। তার পরই স্থানীয় ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।



