ভারত

রামলীলায় মোদিবিরোধী লাখো মানুষ

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কারচুপির অভিযোগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে মহাসমাবেশ করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে লাখো মানুষের ঢল নামে। সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন বিরোধী নেতারা।

রোববার সকাল ১০টার দিকে দিল্লির কনট প্লেসের মিন্টো রোড জংশনে সমবেত হন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে খোলা জিপে করে তারা ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। নেতারা পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার আন্দোলনকারী ময়দানে উপস্থিত হন এবং দেখতে দেখতে পুরো এলাকা কানায় কানায় ভরে যায়। মাঠের ভেতর ছাড়াও বাইরের রাজপথে বিপুল সংখ্যক মানুষ জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেন। পরিস্থিতি সামলাতে পুরো মধ্য দিল্লিতে অন্তত ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

সমাবেশ থেকে বিরোধী নেতারা অবিলম্বে বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ-সংক্রান্ত সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। সমাবেশে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না; বরং তিনি মোদি ও অমিত শাহর ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। তাঁকে ওই পদ থেকে সরাতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যত ক্ষমতাধরই হোন, তারা সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় কারিগরি কারচুপি, বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, সংসদকে না জানিয়ে ৬ নম্বর ফর্মের পুনর্বিন্যাস এবং ইসিআইনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকা কেন্দ্রীভূত করার মতো অনিয়ম হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর দাবি, রাজ্যে এক কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের বিজেপিকে সমর্থনের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ করে আসছে। তবে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের নামে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চণ্ডীগড়ে এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাহুল গান্ধীর সমালোচনামূলক মন্তব্যে জানান, তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension