আন্তর্জাতিক

আইনের শাসনে পাকিস্তানের বেহাল দশা

আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সূচকে পাকিস্তানের নিম্ন অবস্থান নিয়ে দেশটির বিচারব্যবস্থার সমালোচনা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির দায় শুধু আদালতের ওপর চাপানো যথাযথ নয়।

কারণ, একটি দেশের আইনের শাসনের মূল্যায়নে বিচার বিভাগের পাশাপাশি সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় আসে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) ২০২৫ সালের সূচক বিশ্লেষণ করে এমন মত তুলে ধরা হয়েছে।

সূচকে ১৪৩টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৩০তম।

দেশটির স্কোর শূন্য দশমকি ৩৭। আটটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই সূচক তৈরি করা হয়।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধিবিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার। এর মধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা
থাকলেও সব সূচকের ফলাফল বিচার বিভাগের ওপর নির্ভর করে না।

বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিভাগে পাকিস্তান ১৪৩টি দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।

দেওয়ানি বিচারে পাকিস্তানের অবস্থান ১২৯তম এবং ফৌজদারি বিচারে ১০১তম। তুলনায় বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ১২৫তম হলেও দেওয়ানি বিচারে ১৩২তম এবং ফৌজদারি বিচারে ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে।

তুরস্ক সামগ্রিকভাবে ১১৮তম হলেও ফৌজদারি বিচারে ১০৬তম। রাশিয়া সামগ্রিকভাবে ১১৯তম, তবে ফৌজদারি বিচারে ১২৮তম। ব্রাজিল সামগ্রিকভাবে ৭৮তম হলেও ফৌজদারি বিচারে ১১১তম অবস্থানে রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, সামগ্রিক অবস্থান ও পৃথক খাতের মূল্যায়ন এক নয়।

সূচকে পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার কিছু দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। দেওয়ানি বিচারপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা ও ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির স্কোর ০.৩৬, অযৌক্তিক বিলম্বের ক্ষেত্রে ০.২৮ এবং রায় কার্যকরের কার্যকারিতায় ০.৩৫। অর্থাৎ বিচারপ্রার্থীদের জন্য খরচ, দূরত্ব ও দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ৮৬ দফার সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সংস্কার অগ্রগতি প্রতিবেদনে ৬৪টি উদ্যোগ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালত-সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য জনসেবা কেন্দ্র, অনলাইনে নথি প্রক্রিয়াকরণ, ভিডিও সংযোগে শুনানি এবং প্রবাসী বিচারপ্রার্থীদের সহায়তা। নারী ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীদের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলাজট কমাতেও অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুপ্রিম কোর্টে মামলার নিষ্পত্তি আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত জেলা আদালতগুলো প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার নির্ধারিত সময়সীমার মামলা নিষ্পত্তি করেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সূচক দুর্বলতা চিহ্নিত ও সংস্কারে উৎসাহ জোগাতে পারে। তবে শুধু র‍্যাঙ্কিং দিয়ে বিচারব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না। আইনের শাসনের অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সাধারণ মানুষ কতটা সহজে, কম খরচে ও সময়মতো ন্যায়বিচার পাচ্ছেন, তার ওপর।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension