
উচ্চমূল্যস্ফীতিতে ধীর হবে মার্কিন করপোরেট মুনাফার প্রবৃদ্ধি
কভিড-১৯ মহামারীর শুরু থেকেই চলছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন উৎপাদক থেকে শুরু করে বিক্রেতারা। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পর তুমুল ভোক্তা চাহিদা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। ফলে কয়েক দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পারদ। আর এ উচ্চমূল্যস্ফীতি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) করপোরেট মুনাফার প্রবৃদ্ধিকে ধীর করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এপির খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড মুনাফা পাওয়ার একটি সহজ উপায় খুঁজে পায়। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও সেটি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও উৎপাদকরা দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে আসন্ন আয় প্রতিবেদনের মৌসুমে করপোরেট মুনাফার প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীরা বিনিয়োগকারীদের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের হিসাব দিতে চলেছেন। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত ৫০০ বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর করপোরেট মুনাফা প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালের শেষের পর সবচেয়ে বেশি ধীর হবে।
মার্কিন আর্থিক খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেট অনুসারে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে বিশ্লেষকরা শেয়ারপ্রতি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন। পূর্বাভাস সঠিক হলে ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের পর প্রথমবারের মতো এসঅ্যান্ডপি ৫০০ মুনাফা প্রবৃদ্ধি দুই অংকের নিচে নামবে।
আগামী সপ্তাহে আয়-মুনাফার প্রতিবেদন দিতে যাওয়া প্রথম প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হবে ডেল্টা এয়ারলাইনস। গত জানুয়ারিতে বিশ্লেষকরা মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির শেয়ারপ্রতি ৬৮ সেন্ট লোকসানের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে এখন বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস সংশোধন করে শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ৩৬ সেন্ট লোকসানের পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও গত মাসের মাঝামাঝিতে ডেল্টা ঘোষণা দিয়েছিল, পূর্বের প্রত্যাশার চেয়ে প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি বেশি আয় করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল প্রতিষ্ঠানেরই ব্যয় বাড়ছে বিষয়টি তেমন নয়। গ্রাহকরাও উচ্চমূল্য পরিশোধে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছেন। ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। তবে এ বৃদ্ধি সম্পূর্ণরূপে চালিত হয়েছে পণ্য ও পরিষেবার উচ্চমূল্যের কারণে। মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, ভোক্তারা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়ে খরচে বেশি লাগাম টেনেছেন।
তবে উচ্চমূল্যস্ফীতি করপোরেট মুনাফায় ঠিক কতটা আঘাত করেছে তা জানতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার মার্জিন প্রকাশ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটি দেখায় প্রতি ১ ডলার আয়ের বিপরীতে সংস্থাগুলো কী পরিমাণ লাভ করেছে।
আয় প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুমে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, এসঅ্যান্ডপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা মার্জিন ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের চেয়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি কমবে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।
কিছু প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে উচ্চমূল্যস্ফীতি থেকে সরাসরি লাভবান হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় ও মুনাফা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।



