বাংলাদেশ

দুই বছরে নির্মাণ শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে মাত্র ৩০ টাকা

একদিকে মাথার ওপর গণগণে সূর্যের তাপ, অন্যদিকে পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে ভবন নির্মাণ করছে দেশের লাখ লাখ নির্মাণ শ্রমিক। তাদের হাতেই সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের সব অবকাঠামো।

যাদের গেলো দু’বছরে দৈনিক মজুরি বেড়েছে মাত্র ৩০ টাকা। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার পরিশ্রমের পর যা মেলে তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিকে থাকাই কঠিন।

মাথার ওপরে রাগি সূর্য। অন্যের বাড়ি বানানোর কাজে গরমে-তাপে-ঘামে প্রাণবায়ু হাঁসফাঁস। তবুও জিরিয়ে নেবার কোন সুযোগ নেই। আর এটাই নির্মাণ শ্রমিকের নিত্যদিনের দৃশ্য।

বছরজুড়ে এই শ্রমিকরা গড়ে তুলছে বড় বড় ভবন-অট্টালিকা। বিনিময়ে দিনের মজুরি হাতে আসে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

আর মিস্ত্রিরা পান ৭০০ টাকা। যদিও করোনাকালের দুই বছরে ঝুঁকিপূর্ণ এই শ্রমিকদের মজুরি গড়ে বেড়েছে মাত্র ৩০ টাকা। যা মূল্যস্ফীতির চাইতে কয়েকগুণ কম।

তবে সব নির্মাণ শ্রমিকের মজুরী বাড়েনি। তাইতো সামান্য মজুরি দিয়ে নিজের থাকা খাওয়ার পর সংসারে টাকা পাঠানো যায় না বলেও জানান তারা।

ভবন নির্মাণ কাজের জন্য চুক্তিতে কাজ দেয়া হয়। তাইতো মজুরির বিষয়টি তাদের নিয়োগদাতার ওপরেই নির্ভর করে। এমনটাই মনে করে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব।

শ্রমিক নিয়োগেও লিখিত বিধিমালা নেই। এ কারণে নির্ধারিত বেতন তালিকা এবং সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য বেতনের নিয়মকানুন এখানে ভয়াবহভাবে অনুপস্থিত।

আবার ঢাকায় বেশিরভাগ নির্মাণ সাইটের শ্রমিকেরা নির্মাণ সাইটেই বসবাস করেন। স্বল্প বেতনে আবাসনের সুযোগ ঢাকায় না থাকাই মূলত এই কাজে তাদের বাধ্য করে।

মহান মে দিবসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সমন্বয় করে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

শুধু মজুরিই নয়, নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তার যে গাইডলাইন আছে মানা হয় না। শ্রমিকদের জন্য বেশিরভাগ সাইটেই দেখা যায় না নিরাপত্তা পোশাক, হেলমেট এবং গামবুট।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension