
গোপালগঞ্জে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ‘স্বেচ্ছাচারিতায়’ অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ১৩ শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লটারিতে ভর্তির পর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ১৩ শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা নিয়মিত ক্লাস করে। অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার আগে হঠাৎ করে তাদের ভর্তি অবৈধ উল্লেখ করে ক্লাস ও অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ নিতে নিষেধ করে কর্তৃপক্ষ।
এরপরও এসব শিক্ষার্থী শনিবার সকালে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ নিতে শেখ হাসিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাধায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এ সময় অধ্যক্ষ শাহানাজ রেজা এ্যানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোহসিন উদ্দিন বিদ্যালয়ে এসে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।
এদিকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় ১৩ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া সপ্তম শ্রেণির ১৮ জন, অষ্টম শ্রেণির ১৬ এবং নবম শ্রেণির ১১ জন ছাত্রীর একই অবস্থা।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা হাচিনের বাবা শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ছয় মাস পর এসে এখন কেন আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না? ভর্তি রেজিস্টারে নাম না উঠার দায় কেন শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে? আমরা তো সব প্রক্রিয়া মেনেই ভর্তি করেছি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, লটারি ও অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও আটজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। তারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তারা কীভাবে বৈধ হলো? আর আমাদের ছেলেমেয়েরা কীভাবে অবৈধ হয়ে গেল? এটা প্রশাসনের এক ধরনের অমানবিক, স্বেচ্ছাচারী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।
পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানায়, শনিবার আমাদের অর্ধবার্ষিকীর পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আমরা স্কুলে এসে আসন বিন্যাসে আমদের রোল নাম্বার দেখতে পাইনি। এ সময় স্কুল ভবনে গেলে শিক্ষক অনুপ কুমার বিশ্বাস বাধা দেন। আমরা পরীক্ষা দিতে পারিনি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ শাহানাজ রেজা এ্যানি বলেন, আমার আগে যে অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি ওই ১৩ শিক্ষার্থীর নাম ভর্তি রেজিস্টারে ওঠিয়ে যাননি। আমি নতুন যোগদান করেছি। জেলা প্রশাসক আমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন আমি সেভাবেই চালাচ্ছি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোহসিন উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় তার আইন অনুযায়ী চলবে। এসব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, এরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই নয়। তবে অভিভাবকরা চাইলে তিনি জেলা প্রশাসন স্কুলসহ অন্য যেকোনো বেসরকারি বিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তির ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে ও তাদের ছাত্রত্ব বজায় রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।



