
আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্টের ১২ বছরের জেল
দুর্নীতির মামলায় আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারকে ১২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালনকালে সরকারি তহবিল তছরুফ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে শনিবার (২৭ আগস্ট) প্রবীণ এ রাজনীতিককে কারাদণ্ড দেন দেশটির একটি আদালত।
আদালতের এ রায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনার সমর্থকরা। শনিবার রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার মানুষ।
তাদের দাবি, বিচারের নামে নিপীড়ন করা হয়েছে ক্রিস্টিনাকে। বিক্ষোভকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বিক্ষোভকারীদের। এতে আহতও হন বেশ কয়েকজন।
২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনার। সে সময় সরকারি তহবিল সরানো ও রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্রিস্টিনার বিরুদ্ধে মামলা করেন আইনজীবিরা। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
রায়ের পরই প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন ক্রিস্টিনার সমর্থকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের। এক পর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশৃঙ্খলার দায়ে এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ।
বিক্ষোভ দেখানোয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ। শনিবার নিজের বাড়ির সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ৬৯ বছর বয়সী এ নারী রাজনীতিক। কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ থামানোর অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আপনারা এবার একটু বিশ্রাম নিন।’
প্রায় চলতি শতকের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা শাসন করছে কির্চনার পরিবার। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ক্রিস্টিনার স্বামী নেস্টার কির্চনার। ফার্স্টলেডি হন ক্রিস্টিনা। নেস্টার দায়িত্বপালন করেন ২০০৭ সাল পর্যন্ত।
এরপর ২০০৭ সালে ফার্স্টলেডি থেকে আর্জেন্টিনার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ক্রিস্টিনা। ২০১১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বপালন করেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০১৯ সালে জোট সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন তিনি।



