
ম্যাকার্থিকে প্রত্যাখ্যান, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অচলাবস্থা
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অচলাবস্থা যেন কাটছেই না। পরপর দুই দিন ছয় দফা ভোট হলেও নতুন স্পিকার নির্বাচিত করতে পারেননি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। ১৯২৩ সালের পর গত ১০০ বছরের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে এমন ঘটনা এই প্রথমবার ঘটছে, যেখানে এতবার ভোটেও কোনো রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট স্পিকার নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) এ লক্ষ্যে আবারও প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটি শুরু হবে। রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, এতবার ভোটের মাধ্যমে রিপাবলিকান পার্টিতে বিভক্তির বিষয়টি জোরালো হয়ে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের শাসনক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
গত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ দখলে নেয় রিপাবলিকানরা। ৪৩৫টির মধ্যে ২২২টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ২১৩টি আসনে জয় পেয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। গত ৩ জানুয়ারি নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। রিপাবলিকান দলের নেতা কেভিন ম্যাকার্থি স্পিকার হওয়ার দৌড়ে নামার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার স্পিকার নির্বাচনের ভোট শুরু হয়। পরপর তিন দফায় ভোটে কেভিন ম্যাকার্থি স্পিকার হতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের কার্যক্রম মুলতবি হয়। এরপর বুধবারও তিন দফা ভোটে তিনি স্পিকার হতে পারেননি।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হতে একজন প্রার্থীর ২১৮ ভোট দরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। যেহেতু রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেহেতু কোনো রিপাবলিকান নেতাই স্পিকার হবেন। কিন্তু কেভিন ম্যাকার্থি এখনো প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থন অর্জনে সক্ষম হননি। কট্টরপন্থি রিপাবলিকানদের একটি গ্রুপ ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে। এই গ্রুপের অধিকাংশই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। যদিও ম্যাকার্থিকে ভোট দেওয়ার জন্য ট্রাম্প তার সমর্থকদের অনুরোধ করেছিলেন।
একজন কট্টর রক্ষণশীল নেতা হিসেবে পরিচিত ম্যাকার্থি। কিন্তু হাউজ রিপাবলিকানদের ২০ জনের একটি অতি ডানপন্থি গ্রুপ স্পিকার পদে ম্যাকার্থির প্রার্থিতার বিরোধিতা করছেন। তাদের ধারণা, ম্যাকার্থি রক্ষণশীলদের জন্য যথেষ্ট নিবেদিত প্রাণ নন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রিপাবলিকানদের আসনের ব্যবধান খুবই কম। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন তারা।
ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান নেতা ম্যাকার্থি গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরোধীরা মনে করেন, তিনি বাইডেন প্রশাসনের সরকারি ব্যয় ইস্যুতে জোর অবস্থান নিতে সমর্থ হবেন না। ফলে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা এই ইস্যুতে সুবিধা করতে পারবে না। ২০ জনের যে গ্রুপটি ম্যাকার্থির বিরোধিতা করছে, তাদের একজন কংগ্রেসম্যান রালফ নরম্যান বলেন, ‘তিনি কি আমাদের জন্য লড়াই করতে যাচ্ছেন? তিনি কি সরকার অচল করতে ইচ্ছুক? তার এমন ইতিহাস নেই।’
তবে ম্যাকার্থির সমর্থকেরা বলছেন, তার প্রতি সমর্থন অটল রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি ট্রেন্ট কেলি বলেন, ২০ জনের দাবির কাছে ২০১ জন আত্মসমর্পণ করতে পারে না।
যেভাবে কাটতে পারে অচলাবস্থা
এখনো সংকট নিরসনের কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, তিনভাবে এই অচলাবস্থার নিরসন হতে পারে। প্রথমত, ম্যাকার্থি তার বিরোধীদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে পারলে অচলাবস্থা কাটতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে অনেক ছাড় দিতে হবে। তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও খর্ব হবে। দ্বিতীয়ত, প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা ম্যাকার্থিকে সরিয়ে একজন কট্টরপন্থি রিপাবলিকান নেতাকে স্পিকার প্রার্থী করতে পারেন, যিনি সহজেই জিততে পারবেন। আর তৃতীয়ত, গত মঙ্গলবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা একজন রক্ষণশীল নেতাকে স্পিকার নির্বাচিত না করে একজন মধ্যপন্থি নেতাকে নির্বাচিত করেছে। এমন ঘটনা কি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও হতে পারে? ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না জানিয়েছেন, তারা একজন মধ্যপন্থি রিপাবলিকানকে সমর্থন দিতে রাজি আছেন। তবে সেক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সমঝোতা থাকতে হবে। হাউজের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এ বিষয়ে রিপাবলিকানরা কোনো আলোচনা করেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



