আন্তর্জাতিক

স্কুল ধর্মঘটে আর দেখা যাবে না গ্রেটা থানবার্গকে

শুক্রবার শেষবারের মতো ‘স্কুল ধর্মঘট’-এর প্ল্যাকার্ড হাতে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ। স্কুলের পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় এরপর এই কর্মসূচিতে তাকে আর দেখা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

শুক্রবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে গ্রেটা লিখেছেন, ‘আজ আমি স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি। এর অর্থ হলো, জলবায়ুর জন্য স্কুল ধর্মঘটের ডাক দেওয়া আমার পক্ষে আর বৈধ হবে না।’

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডিশ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৯ বছর বয়সে তাদের উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন। তবে গ্রেটা তা সম্পন্ন করেছেন ২০ বছর বয়সে। জলবায়ু ইস্যুতে আন্দোলন ও প্রচারণার ব্যস্ততায় স্কুলের পড়াশোনায় এক বছর পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই জলবায়ু ইস্যুতে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলন শুরু করেন গ্রেটা থানবার্গ। তাঁর এই একক আন্দোলন পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সঙ্গে একাত্ম হয়ে শুক্রবারগুলোতে ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কিশোর বয়সীরা ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’ কিংবা ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ নামে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

বর্তমানে কম বয়সী জলবায়ুকর্মীদের কাছে গ্রেটা এক উজ্জ্বল প্রেরণার নাম। তারা পৃথিবীর উষ্ণায়নের জন্য দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আন্দোলন করে আসছে।

কিশোর বয়স থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মলনগুলোতে বৈশ্বিক নেতাদের সামনে প্রায়ই জলবায়ু ইস্যু নিয়ে হাজির হন গ্রেটা। এমন সাহসী কাজের জন্য মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

চলতি বছরের শুরুর দিকেও জার্মানিতে কয়লা ব্যবহারের বিরোধিতা করে আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হন গ্রেটা। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গ্রেটার স্কুল ধর্মঘট বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না বলে টুইটে লিখেছেন তিনি। প্রতি শুক্রবার অন্য কোনো রূপে আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এও লিখেছেন, ‘লড়াই কেবল শুরু হলো।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension