
‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ থেকে বের হতে গোপনে কাজ করছে ভারত: দ্য গার্ডিয়ান
নরেন্দ্র মোদির জাতীয়তাবাদী শাসনের মধ্যে ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ভারতের বেশ পতন হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ইনডেক্সে গুরুতরভাবে পিছিয়ে পড়ার পরে ভারত সরকার ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র’ হিসাবে নিজেদের খ্যাতি বাঁচিয়ে রাখতে গোপনে কাজ করছে।
বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক র্যাংকিং প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, গণতন্ত্রের দিক দিয়ে দেশটি বিপজ্জনকভাবে নিম্নমুখী পথে রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরবে ভারতের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক ও কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোদি রওনা হওয়ার পর ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তৈরি গ্লোবাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্স গত তিন বছর ধরে ভারতকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রে’ নামিয়ে এনেছে। এর কারণ খুঁজতে ২০২১ সাল থেকে ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অন্তত চারটি বৈঠক করেছেন।
অন্যান্য সংস্থার র্যাংকিংয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক ফ্রিডম হাউস ভারতের মর্যাদাকে মুক্ত গণতন্ত্র থেকে ‘আংশিক মুক্ত গণতন্ত্রে’ নামিয়ে আনে। সুইডেনভিত্তিক ভি-ডেম ইনস্টিটিউট ভারতকে ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
https://twitter.com/B5001001101/status/1672073353509879812
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মতে, জনসমক্ষে ভারত সরকার এই র্যাংকিং প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, দিল্লিকে ‘উপদেশ দেওয়ার দরকার নেই’। জয়শঙ্করের র্যাংকিংয়ের বিরুদ্ধে ভণ্ডামির অভিযোগ তোলেন।
গণতন্ত্র ইনডেক্সের এসব হিসেব মূল্যায়নের বৈঠকে থাকা ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ডেমোক্রেসি ইনডেক্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় মোদি ভালো র্যাংকিং পেতে চান।
তিনি আরও বলেন, ভারত ডেমোক্রেসি ইনডেক্সকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে, কারণ এই পিছিয়ে পড়া ভারতের খ্যাতিকে প্রভাবিত করেছে। এই র্যাংকিং ‘নিছক মতামত’ হিসাবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসাবে দেখা হলে ভারতে আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া, ২০২০ সালে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা এবং অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব প্রদানকারী একটি আইন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ডেমোক্রেসি ইনডেক্সের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০১৫ সাল থেকে ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট উল্লেখ করেছে যে, ভারতে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির অবনতি ঘটেছে। ২০২০ সালের রিপোর্টে প্রথম যখন ভারতকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়, তখন সংস্থাটি জানিয়েছিল, ‘ভারতে ২০১৫ সাল থেকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতের স্কোর ৭.৯২ থেকে ২০২০ সালে ৬.৬১-এ নেমে এসেছে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গণতান্ত্র পিছিয়ে পড়ার ফলে এর বৈশ্বিক র্যাংকিং ২৭তম থেকে ৫৩তম স্থানে নেমে এসেছে।’
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন আরও বলছে, মোদির অধীনে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় প্রভাব দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাদের নীতিগুলো মুসলিমবিরোধী অনুভূতি এবং ধর্মীয় সংঘাতকে উস্কে দিয়েছে।
এসব বিষয়ে মন্তব্যের জন্য দ্য গার্ডিয়ান ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এখনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



