আন্তর্জাতিক

ইরাকে কাজ নেই, জল নেই, পালাবার উপায়ও নেই

হাব্বানিয়া হ্রদ। ৫৫ বর্গমাইল বিস্তৃত বিস্তীর্ণ অংশ। একসময় পানি ধারণক্ষমতা ছিল ৪.২ বিলিয়ন ঘনফুট। পশ্চিম ইরাকের আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি থেকে ২৫ মাইল দূরে অবস্থান। যার চার পাশে একটি বিধ্বংসী পানি সংকট দেখা দেয়। পানির অভাবে মাটি শুকিয়ে খাক হয়ে গেছে। জমিতে ফাটল ধরেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে হ্রদের দক্ষিণের গ্রামগুলো। তার মধ্যে আল-আনকৌড় গ্রাম একটি।

পানিশূন্যতার কষাঘাতে ভুগছেন সেই গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকায় ১৩ হাজার বাসিন্দার বাস। এখানকার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ পানি। আর সেই পানিই এখন বিলীন হওয়ার পথে। সূর্যের তীব্র তাপে (তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হ্রদ আরও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষগুলোর অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চায়। কিন্তু উপায় নেই। কারণ অন্য কোথাও মাথা গোঁজার সামর্থ্যও তাদের নেই। আলজাজিরা।

হাব্বনিয়া ১৯৮০-এর গোড়ার দিকে ইরাকের দ্রুত উন্নয়ন ও আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য পর্যটন ও একটি জলাধার শহর হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে আইএসআইএল এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর থেকে এটি তীব্র বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে। হ্রদের দক্ষিণ দিকের গ্রামগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী একটি স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা গ্রিন ইরাক অবজারভেটরি বলছে, আল-আনকৌড় ও আল-মাজার এলাকার ১৩ হাজার বাসিন্দা পানি সংকটের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলজাজিরার সাক্ষাৎকারে বাসিন্দারা এ পরিস্থিতিকে গুরুতর হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সেখানকার এক বাসিন্দা আব্দুল রহিম ইসমাইল (৪৪) তার বাড়ির উঠোনে চিৎকার করে বলেন, আমাদের কাছে পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণও নেই। পানি ঘাটতির জন্য সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানকে দায়ী করছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে ৩০টি পরিবার গ্রাম ছেড়েছে। যারা আটকা আছে তারা টাকার অভাবে পড়ে আছে।

গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পানি ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে ইরাক। জাতিসংঘের মতে, ইরাক ২০৩৫ সালের মধ্যে পানির চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ পূরণ করবে। হাব্বানিয়া ২০২০ সাল থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পানি হারিয়েছে। আনবারের পানিসম্পদ বিভাগের পরিচালক জামাল ওদা সমীর বলেন, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে হ্রদটি শিগগিরই খালি হয়ে যাবে। আরও বলেন, সিরিয়া ও তুরস্ক থেকে ফোরাত নদীর পানির প্রবাহ হ্রাস, বৃষ্টির অভাব ও জলবায়ুর পরিবর্তন যা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension