
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হোক—এটাই চান নেতানিয়াহু: আল জাজিরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, অন্যদিকে ইসরায়েলের ভেতরেই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রত্যাশার কথা সামনে আসছে। আর এটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির অনেক রাজনীতিক চান, ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হোক। যাতে তারা শুধু ইরান নয়, লেবাননেও তাদের যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে আছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরায়েলি সরকারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি নয়, কারণ তারা ইরান ও লেবানন দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সাফল্যের কথা বলে আসছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
যদিও ইসরায়েলি সরকার আগে দাবি করেছিল, দুই ফ্রন্ট আলাদা। কিন্তু এখন বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের কার্যক্রম অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যেই হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমকে হুমকি দিয়ে বলেন, তাকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে এবং ইসরায়েল তাকে হত্যা করবে। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সরকারকে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানান, যাতে আলোচনা এগিয়ে নেয়া যায়।
এখন ইসরায়েল শুধু লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে বলছে না, বরং তা না করলে কঠোর মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার মুখে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সরকার মনে করছে, তাদের আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই ‘আরও পদক্ষেপ’ বলতে আপাতত লেবাননে সেনা মোতায়েন, দখলকৃত এলাকা থেকে সরে না আসা এবং এমন কোনও চুক্তি ঠেকানোর চেষ্টা করা যা তাদের ইরান ও লেবাননে হামলার সুযোগ সীমিত করতে পারে।
অন্যদিকে ইসলামাবাদকেন্দ্রিক পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক নিলোফার আফ্রিদি কাজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান দিন-রাত কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আজ রাত বা আগামীকালের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদের পরিস্থিতি এখন প্রস্তুতিমুখী। শহরের বিভিন্ন অংশে লকডাউন চলছে এবং বিশ্লেষকেরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিতে ফেলেছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস
ইরানের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করে কাজি বলেন, ‘শুধু ইরানের তথাকথিত মিশ্র বার্তা নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। প্রতিটি দেশেরই ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্র থাকে’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেও সমানভাবে, এমনকি আরও বেশি পরস্পরবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ইসরায়েল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রভাব।
এদিকে ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, গত তিন-চার দিন ধরেই আলোচনার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন অংশ লকডাউন রয়েছে এবং রেড জোন সম্পূর্ণ সিল করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে আলোচনা কবে এবং আদৌ শুরু হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে— বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে অবরোধ তুলে নেয়া। বর্তমানে এটিই আলোচনার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা।
এখনও আশা করা হচ্ছে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে এবং আলোচনা হতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য দিন দিন কঠোর হয়ে ওঠায় অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। আর যদি আলোচনা হয়ও, তাহলে তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হতে পারে। না হলে তা স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



