কবিতাসাহিত্য

উন্মাতাল উন্মাদনা

তাহমিদ হাসান


শস্য শূন্য ক্ষেতে,
হেমন্তের হিমেল হাওয়া ওত পেতে
বসে আছে; শুকনো পাতার
বিসর্জনে বসুন্ধরা বিষণ্ণ এখন। হাহাকার
করে মন—মৃত্যুর মতন শীত
বাড়ায়েছে বাহুদ্বয়—বসন্ত-সঙ্গীত
বহু দূরে আজ। মনে পড়ে
একদিন এমনই এক সন্ধ্যায় অঝোরে
কেঁদেছিলে তুমি, হে আমার ক্ষণিকের প্রিয়তমা।

হয়তো তখন,
পৃথিবীর প্রথম প্রেমের শিহরণ
অনুভব করেছিলে তুমি। অথচ আমার মনে
পাতক পুরুষ কামনার প্রয়োজনে
ধরেছিল ভেক;
কেন সেই বিষাক্ত বিবেক
বোঝে নাই প্রণয়ের পবিত্র আহ্বান?
শণিতের কণিকায় ছিল শুধু আনঙ্গের গান,
আর ছিল অন্ধ যৌবনের উন্মাতাল উন্মাদনা।

আজ তুমি দূরে,
আজ তুমি নক্ষত্রের মতো, সন্ধ্যার শাশ্বত সুরে
বুকের ভিতরে জেগে ওঠে অনুতাপ।
আমাদের প্রথম আলাপ
মনে পড়ে—আমরা ছিলাম ট্রামের আশায়—
হায়,
রাত বারোটার পরে সময়ের কাঁটা
থেমে গেল আমাদের। তখন সাগরে ভাটা
ছিল; আকাশের বুকে ছিল নক্ষত্রের নীরবতা।

ব্যথা বাড়ে মনে,
মনে হয় অমরার অমর কাননে
আমাদের হয়েছিল দেখা; নিয়তির
নির্বাসনে তাই পৃথিবীর
দুই প্রান্তে বাস্তবিক আমরা দুজন।
হয়তোবা প্রেম নেই, প্রণয়ের সব আয়োজন
মিথ্যা মরীচিকা।
হে আমার ক্ষণিকের প্রবল প্রেমিকা,
হয়তোবা ভুলে গেছো, ভোলে নাই আমার যৌবন।

হে মায়াবী রাত,
স্বর্গচ্যুত আদমের সেই সন্নিপাত
আমার হৃদয়ে কেন ঢেউ তোলে আজ?
চতুরতা চিরন্তন গুণাবলী; তথাপি বিরাজ
করে কিছু সততার বোধ;
ভেঙেছি তোমার কমনীয় প্রতিরোধ
এমনই এক রাতে, সমুদ্রের সুনিপুণ তীরে।
বিস্মৃত বেদনা তবু কেন হায় ফিরে
আসে? কেন কাঁদে আজ সেই যৌবনের উন্মাতাল উন্মাদনা!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension