
নির্বাচনের আগে ঝড়: ব্র্যাড ল্যান্ডারকে গ্রেপ্তার করল আইসিই
নিউ ইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার ও মেয়র পদপ্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার ইমিগ্রেশন কোর্টে এক অভিবাসীকে সহযাত্রী হিসেবে নিয়ে গেলে সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর এজেন্টরা তাকে আটক করে।
ল্যান্ডার আদালতে উপস্থিত ছিলেন একজন অভিবাসীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য, যার মামলাটি আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ল্যান্ডার ওই ব্যক্তির সাথে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বারবার আইসিই এজেন্টদের কাছে বিচারিক পরোয়ানা (judicial warrant) দেখতে চাচ্ছেন। এজেন্টরা মুখোশ পরা অবস্থায় জোরপূর্বক তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আইনের কাজে বাধা দেওয়া ও ফেডারেল অফিসারদের ওপর আক্রমণের অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেয়।
প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
ল্যান্ডারের প্রচার দফতর জানিয়েছে, তিনি আগেও একাধিকবার অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে আদালতে গিয়েছিলেন এবং এবার তৃতীয়বার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ এবং সহমর্মিতা প্রকাশ।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল যখন তিনি মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির এক সপ্তাহ আগে ভোটারদের সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন (ভোট: ২৪ জুন)।
ঘটনার পরপরই নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অ্যান্ড্রু কুওমো, জেসিকা র্যামোস, জোহরান মামদানি, অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা ল্যান্ডারের মুক্তির দাবি করেন এবং একে “ফেডারেল ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রসঙ্গত
ব্র্যাড ল্যান্ডারের এই গ্রেপ্তার একটি বৃহৎ প্রবণতার অংশ যেখানে আইসিই বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের সাথে টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগে নিউয়ার্কের মেয়র রাস বারাকা ও মার্কিন সিনেটর আলেক্স প্যাডিয়াও আইসিই-র তৎপরতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন।
ল্যান্ডারের মুখ থেকে বারবার উচ্চারিত “Show me the warrant” বাক্যটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিবাসন অধিকার ও আইনের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
উপসংহার
নিউ ইয়র্ক সিটির এই ঘটনা শুধু একজন প্রার্থী বা রাজনীতিবিদের বিষয় নয়—এটি আইন, মানবাধিকার এবং ফেডারেল ক্ষমতার ব্যবহারের এক নতুন দ্বন্দ্বকে সামনে এনে দিয়েছে। এই ঘটনা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



