
‘পুলিশকে গাছে বেঁধে পেটান’ নিদান বিজেপি নেতার
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ছাত্র মৃত্যুর জেরে বিজেপির ডাকা বনধ ঘিরে ক্রমশ চড়ছে রাজনৈতিক পারদ৷ সরকার বনধ বিরোধিতায় আর বিজেপি তাদের কর্মসূচি পালনে মরিয়া৷ এমনই অবস্থায় বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তর দিনাজপুরের বিজেপি জেলা সভাপতি৷ তিনি বলেছেন, ‘‘পুলিশকে গ্রামে ঢুকতে দেবেন না, পুলিশ দেখলেই গাছে বেঁধে পেটান৷’’
এমনিতেই দাড়িভিট গ্রাম উত্তপ্ত দুই ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায়৷ রবিবার ইসলামপুরের দাড়িভিট পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের সামনে বিজেপি জেলা সভাপতি বিজেপি সভাপতি শঙ্কর চক্রবর্তী উত্তেজনা ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠল৷
এদিন থমথমে দাড়িভিটে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ সঙ্গে ছিলেন দলের জেলা সভাপতি শঙ্করবাবু৷ সেখানে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘রাস্তায় কুকুর পড়ে থাকলে জল দিয়ে সাহায্য করবেন কিন্তু পুলিশকে কোনও রকম সাহায্য করবেন না৷’’
প্রশ্ন উঠছে, কোনও স্বীকৃত দলের নেতা হয়েও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অসহযোগিতার অভিযোগ কি করে আনলেন শঙ্করবাবু? এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে রূপসী বাংলা, সেখানে বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, ‘‘পুলিশ তদন্তের নামে এখানে ছেলে খেলা করছে৷ পুলিশের ভয়ে সন্ত্রস্ত্র গ্রামের মেয়ে-বউরা৷ রাত্রে গ্রামে ঢুকে মেয়েদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে পুলিশ৷ সেক্ষেত্রে আমি যদি পুলিশের বিরুদ্ধে এমন কথা বলে অন্যায় করে থাকি তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী৷’’ কিন্তু তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি পুলিশকে, দাড়িভিট নিয়ে ছেলে খেলা করতে আমি দেব না৷ কারণ রক্ষকই যখন ভক্ষক তখন পুলিশের সঙ্গে এই ব্যবহারই হবে৷
বিজেপির জেলা সভাপতি পুলিশের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত হননি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপরও আক্রমণ শানিয়েছেন৷ শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, ‘‘সরকার যেভাবে চলছে তাতে আর বেশিদিন আয়ু নেই তাদের৷ নন্দীগ্রামের ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়েছে সিপিএম৷ আর দাড়িভিটের ঘটনায় শেষ হবে তৃণমূল৷’’
অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি জানান, ‘‘আম গাছে তো আর তেঁতুল হবে না৷ আর যিনি পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করতে পারেন তাঁর শিক্ষা-সংস্কৃতি নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ আর এতেই পরিষ্কার যে ‘ওরা’ কি ধরণের সংস্কৃতি রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন৷’’
গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট বিদ্যালয়৷ সেখানে গুলিতে মৃত্যু হয় ২ প্রাক্তন ছাত্রের৷ ঘটনার রেশ এখনও অব্যহত৷ সৎকার না করে মৃতদেহ গ্রামে পুঁতে রেখে চলছে আন্দোলন৷ ঘটনায় দোষারোপের পালা চলছে৷ শাসক দলের অভিযোগ আরএসএস গুলি চালিয়েছে৷
অপরপক্ষে বিজেপির পাল্টা, শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলে ২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধের ডাক দিয়েছে৷ যদিও বনধ রাজনীতিতে দাঁড়ি টানতে প্রতিবারের মত তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল৷ কোনও বনধ হবে না বলে শনিবারই জার্মানি সফরের মাঝে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কিভাবে বনধের মোকাবিলা হবে তাও স্পষ্ট করেন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷



