
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
জলের রেণু হাওয়ায় ভাসে, মেঘের ফোঁটা স্বপ্ন আঁকে
রঙিন ছাতা উড়ছে দূরে, অচিন পাখির ডানায় মাখে।
বৃষ্টির ফোঁটা গলে পড়ে, দেয়াল জুড়ে সবুজ শেওলা
আঁধার ক্যানভাসে ছবি, ধুয়েমুছে নেয় সকল ময়লা।
জ্বলে নীলচে বিদ্যুতের শিখা, কাঁপন তোলে গভীরে
শহরের ইট-কাঠের ভিড়ে, ছায়ার খেলা আঁধারে।
ভিজে মাটির গভীর ঘ্রাণ, পরাবাস্তব এক সুর
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো, যেনো কোনো এক সুদূর।
অজানা এক স্বপ্ন-নদী, ঢেউ খেলে যায় অবিরত
ক্লান্ত পথিক পথ হারায়, একাকি সে-ই রয় গত।
বৃষ্টির সুরের মূর্ছনা, কানে বাজে সেই অজানা ভাষা
কোন সে সুরের অতল গহ্বরে, লুপ্ত হয় সব আশা।
জানালার কাচের ওপারে, হাসে শহরের নিয়ন আলো
মিশে যায় বৃষ্টির জলে, বিভ্রমের জাল বোনে ভালো।
ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে, জমে আছে কত কথা
অবাস্তব এক দৃশ্যপট, নীরবতার বুকে হাজার গাঁথা।
বৃষ্টি আর আমি একা, খুনসুটি এই পরাবাস্তব রাতে
ভেসে যায় সব বাস্তবতা, এক অচেনা স্রোতের সাথে।



