
সারমিন চৌধুরী
ক্লাসের ফাঁকে করা কত হট্টোগোল
ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠার অধির অপেক্ষা
হোমওয়ার্ক নামক নীরব মাথাব্যথা,
কিংবা কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলার গোলকধাঁধা।
পড়া না শেখার শাস্তি উঠ-বস, কানমলা;
বিশ্রী হাতের লেখার জন্যে আপাদমস্তক বেত্রাঘাত,
কিংবা হাতের নখ বড় না রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা
এমনি হাজার স্নেহের নিত্য নৈমিত্তিক শাসনে
তুমি হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলে মনুষ্যত্বের বীজ;
তবে আচানক কেন ঠেলে দিয়েছ দূরে?
বড় হয়ে গেছি এমন খচিত দলিল পেশ করে
সেইদিন চারদিকে বেজে ছিল বিদায়ের সাইরেন
জানতে মায়ের কাছে কভু সন্তানেরা বড় হয়না
শেষ হয় না কথার ফুলঝুরি এক জীবনে,
এসেছি বলে যেতে হবে ছুঁড়েছ বিদঘুটে কথা।
তুমি ঈশ্বিত্ব দীপ্ত উজ্জীবিত চেতনার মার্তণ্ড
আমি তোমাতে শোভিত এক কৌমুদী,
তোমার হস্তপদাদি হাস্যোজ্জ্বল চিরযৌবনা
আমার নেত্র জুড়েই শুধু নীরব অশ্রুজল
তুমি হিয়ার হাবিলাষে স্নেহময় শান্তিনিকেতন
আমি খুঁজছি সেখানে লোচন ভরা নিদ্রা;
বিচ্ছেদের কোনো খেদ ছিলো না প্রিয়!
প্রাক্তন পরিচয়ে আবারও এসেছি বিদ্যায়তনে।



