
বুলগেরিয়ায় বিপুল ভোটে জয়ের পথে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রাদেভ
বুলগেরিয়ার সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেতে যাচ্ছে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রুমেন রাদেভের নতুন দল ‘প্রোগ্রেসিভ বুলগেরিয়া’ (পিবি)। ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে রাদেভের দল। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিসির তথ্য মতে, দেশটিতে গত ৫ বছরে ৮টি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিমজ্জিত দেশটিতে স্থিতিশীলতার আভাস দেখা যাচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী রুমেন রাদেভের দল সরকার গঠন করলে তিনিই প্রধানমন্ত্রীর পদে বসবেন।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভের জিইআরবি পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন রাদেভ। রবিবার সন্ধ্যায় এক ভাষণে ৬২ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ‘জনগণ পুরানো দলগুলোর অহংকার ও মিথ্যাচারকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
’
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে বিতর্কিত বাজেটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের মুখে এই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক মিগ-২৯ ফাইটার পাইলট রাদেভ ব্যক্তিগতভাবে রাশিয়া ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত। তিনি শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, অস্ত্র সরবরাহ কেবল একটি ‘অজেয় যুদ্ধ’কে দীর্ঘায়িত করছে।
তবে ব্যক্তিগতভাবে বিরোধিতা থাকলেও, বুলগেরিয়ার অর্থনীতিতে অস্ত্র শিল্পের গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করছেন না।
বুলগেরিয়া বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বড় গোলাবারুদ সরবরাহকারী। বিশেষ করে জার্মানির বিখ্যাত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’-এর সঙ্গে বুলগেরিয়ার যৌথ উদ্যোগে বিশাল আর্টিলারি শেল তৈরির কারখানা স্থাপিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাদেভের অবস্থান হবে স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর মতো—অর্থাৎ তিনি নিজে ইইউ-র সামরিক সহায়তার সমালোচনা করবেন ঠিকই, কিন্তু বেসরকারি কম্পানিগুলোকে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র উৎপাদনে বাধা দেবেন না।
দীর্ঘ ৯ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর গত জানুয়ারিতে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে নামেন রাদেভ।
তার মূল প্রচারণাই ছিল দুর্নীতি দমন এবং বছরের পর বছর ধরে চলা ভঙ্গুর জোট সরকারের অবসান ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী বুলগেরিয়া গড়া। যদিও তার দল এককভাবে সরকার গঠনের খুব কাছাকাছি, তবুও রাদেভ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে জোটসঙ্গী খুঁজছেন।



