বাংলাদেশরাজনীতি

এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে এবার হত্যাচেষ্টার মামলা, বাদী সেই গাড়িচালক

তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদে এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সদ্য বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। আজ বুধবার এই মামলা করেন এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান।

এরই মধ্যে মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ওই আসামির নাম আমিনুর রহমান। তিনি মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

এ মামলার আসামিরা হলেন গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) এসআই রাকিবুল হুদা আসামি আমিনুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তাঁর বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তাঁর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে।

নজরুল ইসলামের ধারণা, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম এবং ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলার বাদী ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। আহত অবস্থায় ওবায়দুর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে ওবায়দুর আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাঁকে যেখানে পাবেন, সেখানেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension