
জন্মগত নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের উদ্যোগ বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
শাহ্ জে. চৌধুরী, নিউইয়র্ক | জুন ৩০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মগত নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রায়ে আদালত পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই নীতি বহাল রয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, জন্মভিত্তিক নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও যেসব শিশুর বাবা-মা অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসী, তাদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার থাকবে না। তবে আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে পূর্ববর্তী সাংবিধানিক অবস্থান বহাল রাখে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আদালত ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক Wong Kim Ark মামলার রায় উল্লেখ করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাগরিকত্ব পিতামাতার অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল এই রায়ের সমালোচনা করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মাধ্যমে এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
গুরুত্ব ও প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার অভিবাসী পরিবারের শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত থাকছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক বিতর্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
সংক্ষেপে
সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় পুনরায় নিশ্চিত করল—
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণই নাগরিকত্বের ভিত্তি, যা সংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বহাল রয়েছে।



