আন্তর্জাতিক

বিমান নিয়ে ‘নাটক’ সাজান নেতানিয়াহু : রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক যুদ্ধে টেনে আনার লক্ষ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান ছিনতাইয়ের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ (সাজানো) নাটক সাজিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে প্রেস টিভি এক ‘সুপরিচিত আঞ্চলিক সূত্রের’ বরাত দিয়ে দাবি করে, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মূলত এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারের এই বিমান দুর্ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে আমিরাতে এক গোপন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেই সফরেই এই সাজানো অভিযানের মূল রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।

প্রেস টিভির বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, নেতানিয়াহুর সাথে একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন এবং কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই এমন এক সামরিক মহড়ার ছক আঁকা হয়, যার দায় পরবর্তীতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়।

প্রেস টিভির সূত্রের দাবি, পুরো ষড়যন্ত্রটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক সামরিক সংঘাতে জড়াতে প্ররোচিত করা। পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামনে আসা সংসদীয় নির্বাচনে নিজের জোটে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু এই পথ বেছে নিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে প্রেস টিভি তাদের প্রতিবেদনে এই সূত্রের কোনো পরিচয় প্রকাশ করেনি এবং দাবির সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি।

এ দিকে প্রেস টিভির এই বিষ্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে ফ্লাইদুবাই জানায়, উড্ডয়ন চলাকালে বিমানে ‘ককপিটের ভেতর হাতাহাতি ও সংঘাতের’ ঘটনা ঘটে। তবে ক্রু সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপে বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনায় বিমানের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার উভয়েই আহত হন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যাত্রী ও বাকী ক্রুরা সুরক্ষিত ছিলেন।

এই ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সৌদি আরবের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার’। একই সাথে তদন্ত চলাকালীন ইসরায়েলে তাদের সকল ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension