বাংলাদেশরাজনীতি

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর সাজার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, আপিল করবে দুই পক্ষই

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার কথা জানিয়ে ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঁচশ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা হাতে পেয়েছি। এখনো সেটি পড়া হয়নি। পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।”

অন্যদিকে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, “দুই-তিন দিন আগে পূর্ণাঙ্গ রায়টি আমরা হাতে পেয়েছি। ট্রাইব্যুনালের রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ হয়েছি। আগামী এক মাসের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হবে।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ (৩) ধারা অনুযায়ী, খালাস বা যে কোনো দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর আপিল করার সুযোগ নেই। আর আইনের ২১ (৪) ধারা অনুযায়ী, আপিল দায়েরের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এর আগে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।

গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখকে হত্যাসহ উসকানি, ষড়যন্ত্র, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনের আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকি পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন, আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেন ইনু।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক’ ট্যাগ দেন তিনি। একই সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মূলত আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

আর সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, ৪ অগাস্ট বিকালে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে কারফিউ জারির মাধ্যমে গুলি চালানোর কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে অধস্তনদের নির্দেশ দেন ইনু।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension