
মার্কিন সেনা হত্যা করলেই ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করে ইরানের হাতে তুলে দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার (বা ৫ বিলিয়ন তোমান)। আর এই কাজ কোনো নারী করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে ৬০ হাজার ডলারে।
খোদ ইরানের সামরিক বাহিনী দেশের নাগরিকদের জন্য এই অবিশ্বাস্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই পুরস্কার ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে উদ্ধৃত করে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকদের কাছ থেকে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ‘প্রচুর অনুরোধ’ আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন আটক করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মার্কিন সেনা নামেনি।
জেরুজালেম পোস্টের খবর অনুযায়ী, পুরস্কার শুধু নগদ অর্থেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেনাপ্রধান হাতামি জানান, মার্কিন সেনাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেবে ইরান এবং ওই ব্যক্তিকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অসারতা এই যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে তাদের প্রবেশের আর কোনো অনুমতি নেই।
গত ১৭ জুন সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যখন শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এলো। তবে এই যুদ্ধবিরতি বরাবরই বেশ নড়বড়ে ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোয়নি, বরং দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে থেমে থেমে গোলাগুলি চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ইরাক বা জর্ডানের মতো ইরানের বাইরের দেশগুলোতে মারা গেছেন।



