
রাজনীতির আলোয় দীপ্ত এক জীবন—প্রিয় তোফায়েল ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা
প্রিয় তোফায়েল ভাই,
ভূগোল বইয়ে পড়েছিলাম—পৃথিবী ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে একবার নিজ অক্ষে আবর্তন সম্পন্ন করে। কিন্তু সেই ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ঘাটতিকে আমরা উপেক্ষা করি, বলি—২৪ ঘণ্টায় একদিন। আবার সেই ঘাটতি পূরণে চার বছর পরপর ক্যালেন্ডারে একটি দিন যোগ করি—যেন সময়ের ছন্দ ঠিক থাকে, হিসেব মিলে যায়।
আমি বিজ্ঞানী নই, এসব সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে আমার খুব বোঝাশোনা নেই। তবু ভাবি—এই ঘূর্ণন, এই সূক্ষ্ম সময়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের নিয়ম, প্রভাত আর গোধূলির গল্প। ঠিক তেমনি, আমাদের সমাজ ও ইতিহাসও আবর্তিত হয়েছে কিছু মহৎ মানুষের চারপাশে—যাদের প্রজ্ঞা, সাহস ও দিকনির্দেশনায় সময় নিজের অর্থ খুঁজে পায়।
১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ঘোষণার ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকে শুরু করে ২৪ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থান—এগুলো কেবল তারিখ নয়, এদেশের স্বাধীন চেতনার পদচিহ্ন। আর সেই পদচিহ্নে আপনার নামটি ইতিহাসের বুকজুড়ে উজ্জ্বল—তোফায়েল আহমেদ।
১৯৬৯ সাল—এক উত্তাল সময়। বাংলাদেশ তখনো পূর্ব পাকিস্তান। শেখ মুজিব তখনো ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পাননি। আর সেই জনসমুদ্রে, ২৩ ফেব্রুয়ারির রেসকোর্স ময়দানে, লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে—আপনিই তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত করলেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ উপাধি—‘বঙ্গবন্ধু’।
আপনার কণ্ঠেই প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল সেই শব্দ, যা পরবর্তীকালে জাতীয় পরিচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
আপনার নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ ঘটিয়েছিল ২৪ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থান—যা আইয়ুব খানের লৌহশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তখন আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের ছাত্র। ভাবি, রাজনীতির মঞ্চে যার পদচারণা এত দৃপ্ত, তিনি কেন বেছে নিলেন মাটির বিজ্ঞান? হয়তো উত্তর লুকিয়ে আছে আপনার মাটির প্রতি ভালোবাসায়—এই মাটির মানুষ, এই বাংলাই তো আপনার রাজনীতির উৎস, আপনার জীবনের শিকড়।
তোফায়েল ভাই, আপনি শুধু একজন রাজনীতিক নন—আপনি বাংলাদেশের ইতিহাসের জীবন্ত অধ্যায়। জাতির জনকের পাশে থেকে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আপনার অবদান কেবল রাজনীতির ইতিহাসে নয়, বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে অমোচনীয়ভাবে।
আজ, ২২ অক্টোবর—আপনার জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও আপনি যেভাবে মানসিক দৃঢ়তা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে নিজেকে অটুট রেখেছেন—তা আমাদের কাছে এক অনুপ্রেরণার পাঠ।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, শান্তি ও শক্তি দিন।
আপনার মতো মানুষদের উপস্থিতিই আমাদের প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়—কীভাবে ইতিহাস গড়ে ওঠে, আর দেশ ভালোবাসা দিয়ে নির্মিত হয়।
ভালো থাকবেন, ভালোবাসবেন।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় তোফায়েল ভাই।
আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ইতি,
আপনার স্নেহধন্য,
শাহ্ জে. চৌধুরী



