
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় মোবাইলে ব্যস্ত এমপিরা
জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি হয়েছে শুক্রবার (৭ এপ্রিল)। সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ এ সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তার আহ্বানে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ অধিবেশনে শুক্রবার ছিল রাষ্ট্রপতির বিশেষ ভাষণ। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বিশেষ এ ভাষণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন দিক, সংসদের কার্যকারিতা-অকার্যকারিতা, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন আবদুল হামিদ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খানম অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।
সংসদ সদস্য ছাড়াও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। সাড়ে তিন শ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫২ জন অনুপস্থিত ছিলেন সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ এ অধিবেশনে। এর মধ্যে ট্রেজারি বেঞ্চের ৬ সদস্যও ছিলেন না অধিবেশনে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে কখনো নীরবতা কখনো টেবিল চাপড়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। অনেকে মনযোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনলেও একাধিক সংসদ সদস্য অমনোযোগী ছিলেন। প্রায় পুরো সময় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে তাদের। কেউ ছবি, কেউ মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন কিছুতে মোবাইলে ব্যস্ত থেকেছেন তারা।
এদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, হুইপ ইকবালুর রহিম, শাহে আলম, জাকিয়া নূর লিপি, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আয়েন উদ্দিন, নুরুজ্জামান বিশ্বাস, নিজাম উদ্দীন জলিল জন, এইচ এম ইব্রাহিম, এ্যারেমা দত্ত, আখতারুজ্জানসহ নতুন ও তরুণ সংসদ সদস্যদের মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
শাহরিয়ার আলম, মহিবুল হাসান চৌধুরী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রীসহ তিনজন খোশগল্পেও মেতে ছিলেন এ সময়। নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা গেছে পেছনের সারিতে বসা কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও।
তবে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের দেখা গেছে মনযোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনছেন।



