
সত্যিই কি ইরানের সেই তিন পাইলট জীবিত আছে? কী বলছে কাতার
সম্প্রতি ইরান দাবি করেছে, কাতারের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালাতে যাওয়া তাদের তিন পাইলট জীবিত আছেন এবং কাতার তাদের বন্দি করে রেখেছে। তবে শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কাতার। দোহার দাবি, তল্লাশি চালিয়ে এক ইরানি পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে তারা।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানি যুদ্ধবিমানগুলো তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার্থে কাতার তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। বিমানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাইলটরা কোনো সাড়া দেননি। পরে উদ্ধারকারী দল এক পাইলটের দেহাবশেষ খুঁজে পায়। এটি হস্তান্তরের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযানের বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য দোহা যে আহ্বান জানিয়েছিল, তাতে তেহরান এখনো সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং নিখোঁজ অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাকেরজাদেহর দাবি ভিন্ন। তারা জানান, কাতারে হামলার মিশনে গিয়ে যুদ্ধবিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর কাতারি বাহিনী ওই তিন পাইলটকে জীবিত আটক করে।
এই ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে কয়েক মাস ধরেই একটি তদন্ত দল পাঠাতে চাইছে তেহরান। কিন্তু কাতার বারবার তদন্তে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। আইআরজিসি বলছে, বন্দি রাখার কথা অস্বীকার না করে কাতারের উচিত ইরানি বিশেষজ্ঞদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া। নিখোঁজ পাইলটদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রেড ক্রসের জরুরি হস্তক্ষেপও চেয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে সময়ই ওই তিন পাইলট মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।



