আন্তর্জাতিকপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্পের ঐক্যের ডাক

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পদ্ধতি সংস্কার, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং রাজনৈতিক মতানৈক্য দূর করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বার্ষিক স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে এ আহবান জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে যে ছয়টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলো হলো: তার প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্য, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের গুরুত্ব, অবকাঠামো উন্নয়নে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের খাত, ২০৩০ সাল নাগাদ এইডস দুরীকরণের প্রয়াস, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার এবং উত্তর কোরিয়াকে পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত করার সাফল্য।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে ভাষণ শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার আজকের ভাষণ রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেটিক দলের জন্য নয়, আমেরিকান জনগনের উদ্দেশে। যুক্তরাষ্ট্র দুই দলের নয়, এক জাতি হিসাবে পরিচালিত হবে।’

তার ভাষায়, ‘কোনো দলের জন্য জেতাটা বিজয় নয়, দেশের জন্যে বিজয় হচ্ছে আসল বিজয়।’

ভাষণের শুরুতে কংগ্রেসে উপস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিন সৈনিককে পরিচয় করিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এছাড়া তিনি ৫০ বছর আগে চাঁদে অবতরণকারী নভোচারী বাজ অলড্রিনকেও পরিচয় করান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘বিংশ শতাব্দীর আমেরিকা মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছে, এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে এবং গোটা বিশ্ব তা জেনেছে। এখন আমাদেরকে সাহসের সঙ্গে শক্তভাবে সমৃদ্ধ আমেরিকা গঠনের নতুন অধ্যায় রচনায় মনোযোগ দিতে হবে। একাবিংশ শতাব্দীর জন্য জীবনযাত্রার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে হবে।’

তিনি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে দশকের পর দশক ধরে চলা রাজনৈতিক মতানৈক্য ও বিভক্তি দূর করতে পারি। আগের ক্ষত মুছে ফেলতে পারি। নতুন জোট করতে পারি। নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে পারি।’

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে আমরা নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করেছি। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ইর্ষনীয়। আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী। প্রতিদিনই বিজয় লাভ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, অভিবাসন পদ্ধতি সংস্কার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এর মাধ্যমে আমেরিকানদের জীবন ও চাকুরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত হবে।

এরপর তিনি সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীবাহিনী ও রাজনীতিকদের মধ্যেকার বিভক্তির অন্যতম প্রধান একটি কারন হচ্ছে অবৈধ অভিবাসী। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে দেয়াল নির্মান করে সে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

দেয়াল নির্মাণ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলেন ‘আমি এটা নির্মান করাবো’ তখন রিপাবলিকান সমর্থকরা দাঁড়িয়ে উল্লাস করেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থকরা আসনে বসে থাকেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘দেয়াল উঁচু হলে অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমে যাবে। এই দেয়াল হবে একটি ইস্পাতের বেড়া, কংক্রিটের দেয়াল নয়।’

তিনি বলেন, শক্তিশালী সীমান্ত বাধার কারনে অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমেছে এবং সানদিয়াগো ও এল পাসোর মানুষের জীবন নিরাপদ হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক নারী যুক্ত হয়েছেন। কংগ্রেসে বিপুল সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছেন এবং আজকের এই অধিবেশনকে তারা আলোকিত করেছেন।

তিনি বলেন উন্নয়নশীল দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রয়াস নেয়া হচ্ছে।

বানিজ্য নীতি শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চীন বহু বছর ধরে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করেছে, আমেরিকার চাকরির বাজার দখল করেছে। এখন তা বন্ধ করার সময় এসেছে।

তিনি বলেন, চীনের কাছে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলার আয় হচ্ছে যা আগে কখনো হয়নি।

বৈঠকের এক পর্যায়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এ মাসের শেষ নাগাদ দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। চলতি মাসের ২৭-২৮ তারিখে ভিয়েতনামে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।

সূত্র: সিএনএন/ ভয়েস অব আমেরিকা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension