
অস্ট্রেলিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি অপসারণ
সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: বাংলাদেশী-অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কমিউনিটির দাবির প্রেক্ষিতে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্যারামাটা ক্যাম্পাসে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ মূর্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরিয়ে ফেলেছে। ২০ মার্চ ২০২৫ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে, তারা মূর্তিটি আইন অনুষদের সামনের উন্মুক্ত স্থান থেকে অপসারণ করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
গত ষোল বছরে ফ্যাসিবাদী দমননীতির মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং জনগণের সম্পদ অপব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রায় বারোশ থেকে দেড় হাজার মুজিব মূর্তি স্থাপন করেছিল। বিভিন্ন আকার ও নকশার এই মূর্তিগুলোর নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এইসব প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও দেশের সম্পদ অবাধে লুট করে। এক পর্যায়ে তারা বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশে মুজিবের মূর্তি স্থাপন করা শুরু করে।
এ ধারাবাহিকতায় আওয়ামী শাসনামলে বিভিন্ন দেশে শেখ মুজিবের মূর্তি স্থাপন করা হয়। ইংল্যান্ডের ইস্ট লন্ডনে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে, ভারতের কলকাতা উপ-দূতাবাসে এবং ফ্রান্সের প্যারিস, তুরস্কের আঙ্কারা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এসব মূর্তি বসানো হয়েছিল। এসব মূর্তি নির্মাণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়, যার বড় অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
২০১৭ সালে এমনই একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্যারামাটা ক্যাম্পাসে। মূর্তিটির উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে আসে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আওয়ামী রাজনীতির অনুসারী কিছু শিক্ষক।
এই মূর্তিটি স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রলুব্ধ করতে একটি প্রতারণার কৌশল নেয়া হয়। আওয়ামী লীগের লোকজন শেখ মুজিবকে বঙ্গোপসাগরের জলসীমা ও সামুদ্রিক আইন প্রণয়নের পথিকৃৎ হিসেবে উপস্থাপন করে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিড মানি হিসেবে কয়েক মিলিয়ন ডলার দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডোনারের আগ্রহের বিষয় নিয়ে রিসার্চ সেন্টার স্থাপন করে। জনশ্রুতি রয়েছে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের অধীনে এরকম একটি সেন্টারের প্রতিষ্ঠার জন্য গরীব দেশ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার এ ইউনিভার্সিটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করা হয়। স্থানীয় অনেকেই বলেন এই প্রকল্পের নামে হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যার বড় একটি অংশ আওয়ামীপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও স্থানীয় আওয়ামী নেতারা কমিশন হিসেবে সরিয়ে নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে এই মুজিব-মূর্তি উৎপাটনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ও মতামত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি।



