
উৎসবমুখর পরিবেশে স্পেনের শিরোপা জয় প্রত্যক্ষ করলেন নিউইয়র্কবাসী
নিউইয়র্ক: প্রবাসের ব্যস্ততম জীবনের মাঝেও ফুটবলের মহাযজ্ঞে একাত্ম হয়ে উঠেছিলেন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের বিগ স্ক্রিন ওয়াচ পার্টিতে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শত শত ফুটবলপ্রেমী। প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা আর উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়।
রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর আবেগে ভরা ফাইনাল ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয়। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন।
২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। তাদের নিখুঁত পাসিং, কৌশলী আক্রমণ এবং বল দখলের অসাধারণ দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিগ স্ক্রিনের সামনে সমবেত প্রবাসীরা প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি গোলের সুযোগ ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় করতালি ও উল্লাসে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। ১২০ মিনিটের দীর্ঘ লড়াইয়ে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিও এদিন প্রত্যাশিত ঝলক দেখাতে পারেননি। ভক্তদের স্বপ্ন ছিল—মেসি তার শেষ বিশ্বকাপ অভিযানে আরেকটি সোনালি অধ্যায় লিখবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
চূড়ান্ত বাঁশি বাজার পর স্পেন সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে ওয়াচপার্টির স্থান। আয়োজকদের মতে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক, নান্দনিক ও আধুনিক ফুটবলশৈলীর মাধ্যমে স্পেন নিজেদের অন্যতম সেরা দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ফাইনালেও সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে তারা বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য দাবিদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে।
খেলা শেষে প্রবাসী ক্রীড়াপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের আবহ। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা সাধুবাদ জানান।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি সাকিল মিয়া বলেন, “খেলায় হার-জিত থাকবেই। তবে ফাইনাল ম্যাচটি বিগ স্ক্রিনে সবাইকে একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের এই প্রাণবন্ত ওয়াচপার্টি শুধু একটি খেলা দেখার আয়োজন ছিল না; এটি ছিল প্রবাসীদের মিলন, আবেগ ও ভালোবাসার এক অনন্য স্মৃতি, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন জ্যাকসন হাইটসবাসী।
ছবি




















