
আনন্দমুখর পরিবেশে ‘প্রবাসী মতলব সমিতি’র বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন
হোসনেআরা চৌধুরী, নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কের পাইন প্যাভিলিয়ন চত্বরে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক’-এর বার্ষিক বনভোজন। গত ২৩ আগস্ট ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসী মতলববাসীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী মতলব সমিতির যেকোনো আয়োজনই প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রবাসে নানা সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভক্ত হলেও মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা নিয়ে গঠিত ‘প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের এই অখণ্ড ঐক্যই তাদের অন্যতম বড় শক্তি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সকাল থেকেই বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কের পাইন প্যাভিলিয়ন এলাকায় জমতে শুরু করেন অতিথি ও সংগঠনের সদস্যরা। ভোরে নিউইয়র্কজুড়ে কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেও সকাল ১০টার পর আবহাওয়া অনুকূলে আসায় একে একে বনভোজনস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন সবাই। দুপুরের আগেই অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
আগত অতিথিদের জন্য শুরুতেই সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। গরমের মধ্যে স্বস্তি দিতে পরিবেশন করা হয় তরমুজ, জুস ও ঠান্ডা পানি।
দুপুর ১২টার দিকে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী মতলব সমিতির সভাপতি নাজির উদ্দিন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মিঞা ফয়েজ আহমেদ, বনভোজন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এম. শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সরোয়ার ফারুক হোসেন, সমন্বয়কারী সাকিল মিয়া, সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক মো. কবির রতন, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম সারোয়ার দুলাল, জ্যোতিষ চন্দ্র কীর্তনীয়া, সাবেক সভাপতি রবিউল আলম, উপদেষ্টা ফারুক হোসেন মজুমদার, মানিক মিয়া, মাহবুবুর রহমান, এক্সিট প্রাইম রিয়েলটির কর্ণধার এম. জামান মজুমদার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফয়েজউল্লাহ প্রধান, প্রাক্তন সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিঞা ওবায়েদুর রহমান, মো. ফারুক পাটওয়ারী, ভবতোষ সাহা, ফোটো সাংবাদিক নেহার সিদ্দিকীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বনভোজনে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ডিউক খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, লেখক শিব্বীর আহমেদ, শাহ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট শাহ জে চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল গাজী, শাহনাজ হোসেন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট দুলাল বেহেদু, মানিক বাবু, আকরাম হোসেন বিপ্লব, মনিরুল ইসলাম, আনোয়ার উদ্দিন, মহিউদ্দিন রাহুল, আযহার সরকার, ফারুক হোসেন পাটওয়ারী, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. এমদাদুল হক, এস এম হাবিবুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া তপন, মো. কামরুল আমিন সুমন, মো. জাহিদুর রহমান, আল আমিন হাওলাদার, মো. আব্দুল জলিল, মো. জিসান আহমেদ, মো. আবু নাসের পাটওয়ারী, রাবেয়া বসরী, মো. জয়নাল আবেদিন, মো. বিল্লাল মৃধা, তৌহিদ ইসলাম (মানিক), আলী আজম, দেলোয়ার হোসেন, তপন সাহা, সুখন দাস, মো. আবু সালেক সুমন, মো. ইমন পাটওয়ারী, সীমা জামান, মানছুরা আক্তার, মো. রিয়াদ নেতা, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. মনজুর আলম ইমন, মো. কবির হোসেন ও নাদির আকার মুক্তিসহ কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব।
‘হৃদয়ে মতলব’-এর ১১তম সংখ্যা প্রকাশ
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বনভোজন উপলক্ষে প্রবাসী মতলব সমিতি প্রকাশ করেছে সংগঠনের মুখপত্র ম্যাগাজিন ‘হৃদয়ে মতলব’-এর ১১তম সংখ্যা। ম্যাগাজিনটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পর্বটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী ও সাকিল মিয়া।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
দিনব্যাপী আয়োজনে শিশু-কিশোর ও বড়দের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা, বল থ্রো, বড়দের ফুটবল এবং নারীদের বালিশ পাসিং প্রতিযোগিতা উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।
এর পাশাপাশি ছিল রোমাঞ্চকর র্যাফেল ড্র এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, শাহ মাহবুব ও নীলিমা শশীসহ স্থানীয় শিল্পীরা।
র্যাফেল ড্রতে প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল নগদ ১ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল স্বর্ণের চেইনসহ বিশেষ উপহার।
সবশেষে দিনব্যাপী এই আয়োজন পরিণত হয় প্রবাসী মতলববাসীর এক প্রাণের মিলনমেলায়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে স্বজন, বন্ধু ও স্বদেশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির এই আয়োজন নতুন করে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ছবি























































