
তপ্ত নিউইয়র্কে আনন্দের শীতল পরশ: এলিট ক্লাবের বর্ণাঢ্য বনভোজন
দাবদাহ উপেক্ষা করে হাসি-আড্ডা, গান, খেলাধুলা ও সুস্বাদু খাবারে জমে উঠল প্রবাসীদের প্রাণের মিলনমেলা
হুমায়ূন কবীর ঢালী, নিউইয়র্ক:
প্রচণ্ড দাবদাহ, মাথার ওপর তপ্ত সূর্য—কোনোটিই যেন থামাতে পারেনি আনন্দের উচ্ছ্বাস। হাসি, আড্ডা, গান, খেলাধুলা আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে ১৯ আগস্ট নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ব্যাবিলনে অবস্থিত Belmont Lake State Park-এ অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্ক এলিট ক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ২০২৬। তীব্র গরমকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির সবুজ ছায়ায় দিনভর আনন্দে মেতে ওঠেন ক্লাবের সদস্য, পরিবার-পরিজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সকালের দিকে প্রচণ্ড রোদের কারণে পার্কে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বাড়তে থাকে অতিথিদের আগমন। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে পার্কের নির্ধারিত স্থানে জমে ওঠে প্রাণের মিলনমেলা। কেউ একা, কেউ পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে হাসিমুখে যোগ দেন এই আনন্দ আয়োজনে।
প্রচণ্ড গরমে অতিথিদের স্বাগত জানাতে আয়োজকদের ছিল চমৎকার প্রস্তুতি। সুমিষ্ট তরমুজ আগে থেকেই ফালি করে রাখা হয়েছিল। খরতপ্ত দুপুরে ঠান্ডা ও রসালো তরমুজ হয়ে ওঠে যেন প্রশান্তির এক টুকরো ছায়া। তরমুজের পর পরিবেশন করা হয় হালকা নাস্তা ও ঠান্ডা পানীয়। এতে গরমের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
পার্কের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পুরো আয়োজনকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। লেক, সবুজ বৃক্ষরাজি ও ছায়াঘেরা পরিবেশে কিছুক্ষণ কাটাতেই অনেকেই ভুলে যান বাইরের তীব্র দাবদাহের কথা। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ পরিবেশে বড়দের আড্ডা আর শিশুদের ছোটাছুটি মিলিয়ে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আয়োজনের নেপথ্যে নিরলস পরিশ্রম
বনভোজনের আহ্বায়ক সাকিল মিয়া ও রফিকুল ইসলাম তীব্র রোদ উপেক্ষা করে শুরু করেন বারবিকিউ ও সুস্বাদু খাসির মাংস রান্নার কর্মযজ্ঞ। রান্না থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল আন্তরিকতা ও যত্নের ছাপ।
শিশুদের আনন্দের জন্য নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করেন রকি। সংগীতশিল্পী কামরুজ্জামান বকুল ও সায়েম বাদ্যযন্ত্র প্রস্তুত করে পুরো পরিবেশে সৃষ্টি করেন সুরের আবহ। অন্যদিকে বিপ্লব ব্যস্ত ছিলেন সবার জন্য সুস্বাদু সালাদ তৈরিতে।
শিশুদের প্রাণবন্ত ছোটাছুটি, বড়দের আড্ডা এবং ভাবীদের হাসি-আনন্দে বনভোজনের পরিবেশ ক্রমেই হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। হাতে ক্যামেরা নিয়ে মাহি আহমেদ জেমস মুহূর্তগুলোকে বন্দী করে রাখছিলেন ক্যামেরার ফ্রেমে। আর এলিট ক্লাবের সভাপতি আজিম ও ডিউক খান সার্বক্ষণিক দৌড়ঝাঁপ ও তদারকির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খল ও সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
খেলাধুলায় উচ্ছ্বাস, র্যাফেল ড্রতে চমক
বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খেলাধুলার পর্ব। মহিলাদের জন্য পিলোপাসসহ পুরুষ ও শিশুদের জন্য ছিল রকির পরিকল্পনায় নানা মজার ও আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠেন হাসি-ঠাট্টা ও আনন্দে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
অতিথিদের উপস্থিতিতে বাড়ে আয়োজনের মর্যাদা
এলিট ক্লাবের বর্ণাঢ্য বার্ষিক বনভোজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী সিআইপি শাহ নেওয়াজ। তাঁর উপস্থিতি পুরো আয়োজনে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব যোগ করে।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলী, কমিউনিটির পরিচিত মুখ ফাহাদ সোলায়মান ও রতন কবির, প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শাহ জে. চৌধুরী, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরন, লেখক শিব্বীর আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রিদোয়ানুল হক, গাজী সোহেল, মফিজুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম খোকন, দিদারুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম।
এছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনের সম্মানিত নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক আবহকে আরও সমৃদ্ধ করতে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভিন। সংগীতের জনপ্রিয় মুখ নাজু আকন্দ, কৃষ্ণাতিথি ও রোজী আজাদ, সস্ত্রীক আফতাব জনি, জয়সহ কমিউনিটির আরও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দাবদাহ পেরিয়ে স্মৃতির পাতায় এক আনন্দের দিন
প্রচণ্ড গরম ও দাবদাহকে পেছনে ফেলে সবুজ প্রকৃতির ছায়ায় একসঙ্গে কাটানো দিনটি যেন প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝে এনে দিয়েছিল প্রশান্তির এক নির্মল অবকাশ। সুস্বাদু খাবার, গান, খেলাধুলা, হাসি-আড্ডা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধনে এলিট ক্লাবের এই বনভোজন শেষ পর্যন্ত একটি সাধারণ পিকনিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিণত হয় এক আনন্দঘন সামাজিক মিলনমেলায়।
দিন শেষে অতিথিদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি, আর হৃদয়ে জমা হলো প্রিয় মানুষদের সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো একটি স্মরণীয় দিনের গল্প।
তপ্ত নিউইয়র্কে তাই সেদিন সত্যিই নেমেছিল আনন্দের শীতল পরশ।
ছবি: মাহা আলম জেমস


































