
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর মিলনমেলা
ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় উৎসবমুখর বারবিকিউ পার্টি; সম্মাননা পেলেন তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
হুমায়ূন কবীর ঢালী, নিউইয়র্ক:
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত সময়সূচি আর নিত্যদিনের যান্ত্রিকতার মাঝেও একদিনের জন্য যেন ফিরে এলো প্রাণের বাংলাদেশ। নিউইয়র্কের কুইন্সের মনোরম ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনা প্রাঙ্গণে গত ৩ আগস্ট (সোমবার) বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ এবং সম্প্রীতির আবহে অনুষ্ঠিত হলো ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’-এর বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক বারবিকিউ পার্টি। প্রতিবছরের মতো এবারও এই আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মূলধারার রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক, শিল্পী, সমাজসেবী, চাকরিজীবীসহ কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সুস্বাদু বারবিকিউ, পারিবারিক আড্ডা, র্যাফেল ড্র, শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মিলিয়ে পুরো দিনটি উৎসবের আবহে কাটান উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’-এর সভাপতি সাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. আলম নমী, বারবিকিউ আয়োজনের আহ্বায়ক শাহ জে. চৌধুরী এবং সদস্য সচিব মহিউদ্দিন রাহুল। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন মিয়া মোহাম্মদ দুলাল। পরবর্তী সময়ে সঞ্চালনায় যুক্ত হন মো. সারোয়ার, কামরুজ্জামান বকুল এবং আফতাব জনি। তাঁদের উপস্থাপনার পাশাপাশি সম্মিলিত সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। দেশাত্মবোধক, আধুনিক ও জনপ্রিয় বাংলা গানের পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মূলধারার রাজনীতিক, সমাজসেবক এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ, মূলধারার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফাহাদ সুলেমান, বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্ক-এর সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর নিজামুল হক, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব দুলাল বেহেদু, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীসহ কমিউনিটির আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট রাখতে এ ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান। এ বছর সম্মাননা গ্রহণ করেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ এবং সমাজসেবক মো. জাহিদ। সম্মাননা গ্রহণের পর তাঁরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সুস্বাদু খাবার, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র, আনন্দঘন আড্ডা এবং প্রিয় মুখগুলোর উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে ওঠে প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশ। হাসি, আনন্দ, সম্প্রীতি আর ভালোবাসার এই মিলনমেলা আবারও প্রমাণ করেছে—দূরদেশে থেকেও বাঙালিয়ানা, পারস্পরিক বন্ধন ও কমিউনিটির শক্তি অটুট রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’-এর এই বার্ষিক আয়োজন আগামী দিনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।
ছবি





























