
হুমায়ূন কবীর ঢালী: বাংলাদেশের রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করে United Hindus of USA Inc.
নিউইয়র্কের ডাইভারসিটি এলাকায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করা। কর্মসূচির ইংরেজি স্লোগান ছিল—“Demonstration against killing of 4 Hindus in same family in Bangladesh.”
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করতে পারে না। গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুশিক্ষার্থীর উপস্থিতিও ছিল। তাদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। শিশুদের এই অংশগ্রহণ সমাবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে এবং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসীরা বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো হত্যাকাণ্ডেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই পরিবারের চারজন মানুষের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং কোনো ধরনের পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা একই সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাব যেন না থাকে এবং অপরাধীদের পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা গণপতি চক্রবর্তীসহ নিহত চারজনের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ছবি












