
হুমায়ূন কবীর ঢালী, নিউইয়র্ক:
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শহীদ তাঁর পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসবাসী। যথাযোগ্য মর্যাদা, শোক ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র উদ্যোগে শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, জ্যাকসন হাইটসের ৩৭-২২, ৭৩ স্ট্রিটে, নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল রক্তদান, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, তবারক ও খাবার বিতরণ এবং আগতদের মধ্যে জায়নামাজ ও আমের শরবত বিতরণ।
দুপুর ১টায় রক্তদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে তবারক ও খাবার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে পাঁচটি গরু কোরবানি দেওয়া হয়। এছাড়া উপস্থিত মানুষের মধ্যে আমের শরবত ও জায়নামাজ বিতরণ করা হয়। প্রধান সমন্বয়কারী শাহ জে. চৌধুরী জানান, মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাকিল মিয়া। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. আলম নমি। শোকসভা কর্মসূচির আহ্বায়ক ছিলেন মীর নিজামুল হক, সদস্য সচিব মামুন মিয়াজী এবং চেয়ারম্যান হারুন ভূঁইয়া। প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন শাহ জে. চৌধুরী। সুপারভিশনের দায়িত্বে ছিলেন বিপুল সাহা ও মইনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মো. দুলাল, আলমগীর হোসেন, আবদুল মালেক ও আব্দুল হামিদ; যুগ্ম সদস্য সচিব ডিউক খান ও মো. মাহবুব রহমান; চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক এবং কো-চেয়ারম্যান সাখাওয়াত বিশ্বাস, জেড আর চৌধুরী (লিটু) ও মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এম. এ. আজিজ ও আসিফ বারী টুটুল। পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে ছিলেন মইনুল ইসলাম, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী খোকন, সোহেল গাজী, ফাহাদ সোলায়মান, নুরুল আজিম ও তারেক হাসান খান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া জামান, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. হৃদয় মিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, আবুল কাশেম, শিব্বির আহমেদ, রেজা রশীদ, আহসান হাবিব, ফরহাদ রেজা, নিলুফা শিরিন, হাসান জিলানী, এস এস ব্রোকারেজ, মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, গোলাম হাসান, রফিকুল ইসলাম, আক্তারুর রহমান মামুন, রনি, আনিসুজ্জামান সবুজ, মো. নাজের উদ্দিন, সাঈদ খান, রাচ্ছু আহমেদ, জেবিইবি, হাসান মাহমুদ সোহেল, মো. লুৎফুর রহমান চুমু, মো. জাহিদ, মো. আশরাফুল আজিজ, মো. জাহিরুল ইসলাম, মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়া, মো. আবু তাহের, মো. আনোয়ার হোসেন (অনু), আহাদ ভূঁইয়া, আমিন খান জাকির, শফিকুর রহমান, আবুল ফজল দিদার, অভি (সি কে ফুড), মির্জা এম জামান, শাহ শহিদুল হক, মো. সোহাগ, পাটেল ব্রাদার্স, ডা. তৌহিদ শিবলী, তানভীর শাহীন ও সোহেল গাজীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কামরুজ্জামান বকুল, হুমায়ূন কবীর ঢালী, মো. মানিক বাবু, আসাদুল ইসলাম আসাদ, মো. হাসনাত হাসান, শামস জনি, শাহীন চৌধুরী, আফতাব জনি, আকরাম হোসেন বিপ্লব, মো. সায়েম উল্লাহ, মুক্তা মিয়া, গোপাল সান্যাল, জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, নুরুজ্জামান সরদার, গোলাম কিবরিয়া, কামাল হোসেন রাফি, এইচ এম ইকবাল, জাফর আহমেদ, ওয়াসিম, গণেশ কীর্তনীয়া, মো. রাদবি, শাহরিয়ার হোসেন, শোভন, আনোয়ার উদ্দিন, মহিউদ্দিন রাহল, রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল, জাহানারা আক্তার (লাকী), ফারহানা চৌধুরী, মনির হোসেন, শ্যামল নাথ, মতিউর রহমান, মতিন, মঞ্জুর চৌধুরী, মো. জাহিদ মিয়া, আনিসুজ্জামান সবুজ, আব্দুল হাদী রানা, বিদ্যুৎ হোসেন ও হাসানউজ্জামান সাবু।
এছাড়াও রাশেদ আহমেদ, ফারুক হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, মুকিত চৌধুরী, লাভলু আনসার, আবুল বাশার চুন্নু, খুরশেদ আলম বাবলু, মিজানুর রহমান, মো. ছানা উল্লাহ ও সৈকত আকবর (রিচি) উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা শাহ নেওয়াজসহ হারুন ভূঁইয়া, মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, রাশেদ আহমেদ, ইশতিয়াক রুমী, সিরাজুল হক কামাল, কামরুজ্জামান কামরুল, মনসুর চৌধুরী, মো. পিয়ার, রফিক আহমেদ, ইকতারুজ্জামান রতন, মো. কবির রতন, শফিউদ্দিন মিয়া ও শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ও সম্পৃক্ত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বক্তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েও তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই শোক দিবসের কর্মসূচির সঙ্গে রক্তদান ও মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকরা ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ছবি

















ছবি






