প্রধান খবরভারত

আগাম আঁচ পেয়েও নিজেদের বাঁচাতে পারল না পাকিস্তান

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: চুপ করে বসে থাকবে না ভারত। পালটা প্রত্যাঘাত আসবেই। এমনটা অনেক আগেই আঁচ পেয়েছিল পাকিস্তান। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

পুলওয়ামা হামলার বদলা নিল ভারতীয় সেনা বাহিনী। ভারতীয় বায়ু সেনার এক দল জওয়ান মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে হামলা চালাল পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গি ঘাঁটিতে। লস্কর-ই-তৈইবা, হিজবুইল এবং জৈইশ জঙ্গিদের একাধিক লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার জওয়ানেরা।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপরে হামলা চালায় এক জৈইশ জঙ্গি। আত্মঘাতী জঙ্গি আদিলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন জওয়ান।

এই ঘটনার পরে ভারত যে আর চুপ করে বসে থাকবে না তা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তান। ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান থেকে শুরু করে সেনা জওয়ান, সকলেই পালটা হুমকি দিতে শুরু করেছিল ভারতকে। পাকিস্তান যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই দেশের প্রশাসনিক এবং সেনা প্রধানদের মুখে।

ভারতের পালটা প্রত্যাঘাতের আঁচ করে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা। অনেক জঙ্গিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হলে যাতে চিকিৎসার ত্রুটি না থাকে সেই কারণে হাসপাতালেও করা হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা।

তবে প্রথমেই সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোয়নি ভারত সরকার। পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক এবং কূটনীতিক যুদ্ধ জারি করেছিল দিল্লি। সবজি এবং নদির জলের উপরে লাগাম টানা হয়। যার ফলে পাকিস্তানে নিত্যপ্র্যোজনীয় দ্রব্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি হয়।

ভারত এই উপায়েই প্রতিবাদ জানাবে এবং আর বড় কিছু করবে না। খুব বেশি হলে ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবে না ভারত। যদিও তাতে পাকিস্তানেরই লাভ হবে। এমনই মনে করেছিল পাকিস্তান।

কিন্তু ভারতের তিন সেনাবাহিনীকেই যে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বিষয়টি মনে হয় ভুলে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পালটা প্রত্যাঘাত হতে পারে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন পাক সেনা প্রধান মেজর জেনারেল আসিফ ঘাফুর। পাক প্রধানমন্ত্রীও বিপদ আঁচ করে আলোচনার কথা বলেছিলেন।

সেই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জবাব পেল পাকিস্তান। মঙ্গলবার ভোররাতে (৩.৩০ মিনিটে) নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে বালাকোট সেক্টরে পাক জঙ্গীঘাটি লক্ষ্য করে ১০০০কেজি বোমার সফল নিক্ষেপ করেছে৷ টুইট করে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন পাক আর্মি মেজর জেনারেল আসিফ ঘাফুর৷

অত্যাধুনিক মিরাজ ২০০০ বিমান ব্যবহার করেছে ভারতীয় বায়ু সেনা৷ এই অপারেশনে ১২টি মিরাজ২০০০ বিমান ব্যবহার করা হয়েছে৷  পুলওয়ামা হামলার বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা৷ বালকোট সেক্টরে ভোররাতে হামলা চালিয়ে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি লঞ্চপ্যাডগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনার গর্ব এয়ার ফোর্স৷ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন সাম্প্রতিক কালে ভারতীয় বায়ু সেনার সবচেয়ে বড় সাফল্য এটি৷

পাকিস্তান আর্মির মেজর জেনারেল আসিফ ঘাফুর একটি টুইটে লিখেছেন, ‘‘ভারতীয় বায়ু সেনা নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছ৷ প্রথম অবস্থায় ভারতীয় বায়ু সেনা পুরো ব্যপারটা ধরতে পারেনি৷ ভারতীয় বায়ু সেনার বিমানগুলো ফিরে গেছে৷’’ এই বক্তব্যের পর আরও একটি টুইটে হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া একাধিক জায়গার ছবি টুইট করেন পাকিস্তানের এই আর্মি জেনারেল৷

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension