বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র

আজ ঢাকায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ

ইন্দো-প্যাসিফিক পার্টনারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি, সহযোগিতা জোরালো করতে আন্তঃএজেন্সি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকা সফর করছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে ঢাকা পৌঁছেছেন তিনি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজ অনুষ্ঠেয় অংশীদারি সংলাপে যোগ দেবেন ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আর মার্কিন পক্ষ থেকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে জোর দেয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯-২৩ মার্চ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকা সফর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তঃএজেন্সি প্রতিনিধি দল। এ সফরে প্রথম দেশ হিসেবে আজ বাংলাদেশে অংশীদারি সংলাপে অংশ নেবে তারা। এছাড়া নয়াদিল্লিতে শ্রীলংকা ও ফরেন অফিস কনসালটেশনসের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধি দল। সফরে প্রত্যেক দেশে আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড এবং প্রতিনিধিরা নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পর্ক গভীর করা এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু ও প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি আমান্ডা ডোরি।

গতকাল বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা পৌঁছান ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। এ সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। আজ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অষ্টম পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অংশীদারি সংলাপে যোগ দেবে মার্কিন প্রতিনিধি দল। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত এ সংলাপ চলার কথা। বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব সংবাদ সম্মেলন করবেন। এরপর ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ২১ মার্চ দুপুর ১২টায় ঢাকা ছাড়বেন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের মধ্যকার অংশীদারি সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সংলাপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে গুরুত্ব পায় জিএসপি পুনর্বহাল, বাংলাদেশী পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, দুই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে সফর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চুক্তি, শ্রম অধিকার, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল, করোনা পরিস্থিতি, সমুদ্র অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০ মার্চ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির সঙ্গে আসন্ন এ অংশীদারি সংলাপে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জোর দেবে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইস্যুগুলোর মধ্যে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যু প্রাধান্য পাবে।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মানবাধিকার ও নিরাপত্তা ইস্যুটিতে জোর দেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চুক্তির বিষয়টি সামনে আনতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইস্যুটিও সংলাপে গুরুত্ব পেতে পারে। ইউক্রেন ইস্যুতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘে ভোট হলেও সেখানে কারো পক্ষ নেয়নি বাংলাদেশ। তবে ইউক্রেনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জোরালো অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে দুটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। এ দুটি চুক্তি হলো জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) ও অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা)। এটিও আলোচনায় থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওয়াশিংটনে প্রথম অংশীদারি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তার পর থেকে প্রতি বছর একবার ঢাকা, পরেরবার ওয়াশিংটনে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। তবে করোনার কারণে গত দুই বছর এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুনে ঢাকায় অংশীদারি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension