
আটলান্টায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে আলোচনা সভা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গ রাজ্যের আটলান্টা শহরে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেট ওয়ার্ক ( বেন), সাউদার্ন ইউএস চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ‘মানব স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজিত হয়েছে।
গত শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য মুরশেদুল হাকিম শুভ্রের সঞ্চালনায় আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ‘মানব স্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন সভার মুল আলোচক স্থানীয় এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের কারডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আজিজুল হক।
ডা. আজিজুল হক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন বনাঞ্চল নষ্ট করা, নগরায়ণ, শিল্প-কারখানা থেকে ক্ষতিকারক গ্যাস নিঃসরণ, যানবাহন নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড, ইত্যাদির ফলে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে উষ্ণায়ন ঘটছে, বন্যা, খরা, ঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করছে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বনাঞ্চল অক্ষত রাখা , বৃক্ষরোপন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফসিল তেল, কয়লা ব্যবহার কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবন , শিল্পক্ষেত্রে ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রন , নগরায়ণের নামে যথেচ্ছ গাছ কাটা বন্ধ প্রভৃতি উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীতা অপরিসীম। একই সাথে প্রয়োজন সরকারি নীতিমালা, আর এই ধরনের নীতিমালা প্রনয়ণের জন্য ক্রমাগত সবাইকে একত্রিত হয়ে সোচ্চার হতে হবে।
আলোচনা অংশা নেন স্পেলমেন কলেজের আফ্রিকান ডায়াসপোরা অফ দা ওয়ার্ল্ডের শিক্ষক ড. কোয়ামে কালিমারা। ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান মিলু, এরিক হোসেইন, রাওদা রাহমান, সুজানা সেন, তিসা, আকাশলীনা সইয়দ, ড সৈয়দ ইফতেখার আহমদ, জনাব হাসান, সবুর খান প্রমুখ।
সংগঠনের সমন্বয়ক উৎপল দত্ত আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
সভার শুরুতে যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী নাবিল রহমান দোতারা বাজিয়ে সভার সূচনা করেন। সভা শেষে সেলিনা মলির সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী দীপাঙ্ক দত্ত ও আকাশলীনা সৈয়দ। কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী রাশেদ চৌধুরী, ইকবাল এমদাদ এবং নাহিদ ফারজানা। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জরজিয়া, আটলান্টা শাখার শিল্পীবৃন্দ গণ সঙ্গীত পরিবেশন করেন।



