
আবর্জনা ঘেঁটেই সংসার চালায় সিরিয়ার শিশুরা
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিদিন একটা ছিপ নিয়ে আবর্জনার স্তূপে যায় সাবা আল জসিম। ছিপের আগায় লোহার টুকরো লাগানো থাকে। সেটা দিয়ে প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাছাই করে। এগুলো বিক্রি করে কয়েক ডলার পায়। আর তা দিয়েই ১১ সদস্যের পরিবারের খাওয়া জোটে।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে সিরিয়ার সাবা আল জসিম বলে, আমি আমার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এই কাজ করি। প্রতিদিন দুই ব্যাগ প্লাস্টিক সংগ্রহের চেষ্টা করি।
সিরিয়ায় ৮ বছর ধরে চলে আসা গৃহযুদ্ধের ফলে সাবার মতো অনেক শিশুই গৃহহীন। তারা স্কুলে যেতে পারে না। সাবার বাবা ভীষণ অসুস্থ। মাও চলাফেরা করতে অক্ষম। বড় ভাই পঙ্গু। ফলে বাকি ভাই-বোনরা এই আবর্জনা ঘেঁটেই সংসার চালায়।
সিরিয়ার ইদলিবের এই অংশে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের বাস। তাদের মধ্যে অর্ধেকই গৃহযুদ্ধের কারণে ঘর ছেড়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই ত্রাণের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কাফর লাসিনে সাবার মতো ৫০টি পরিবার যেখানে আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে ত্রাণ পৌঁছে না। ফলে এসব পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই আবর্জনা বিক্রি করে সংসার চালায়।
তাদের একজন জানালো, প্লাস্টিকের আবর্জনা বিক্রি করে দিনে এক হাজার সিরিয়ান পাউন্ড বা ২ মার্কিন ডলার আয় হয়। এই অর্থ দিয়ে রুটি, আলু, সবজি কেনা গেলেও মাংস জোটে না তাদের কপালে।
সাবার বাবা বলেন, যখন সন্তানরা আবর্জনার খোঁজে যায়, তখন নিজেকে খুব ছোট আর অসহায় লাগে। কিন্তু ওরা যদি এই কাজটা না করে তবে, আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, সিরিয়ার ৬৫ লাখ মানুষ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পারে না। ৮ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গৃহহীন হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।



