
আমাদের বিশ্বাস করলেই সুবিধা পাবে মুসলিমরা: বিজেপি নেতা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে মসুলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়া নানাবিধ বিতর্ক আছে। তাঁদেরকে কেবল ভোট ব্যাংকের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার সাত দশক পরেও সেই অবস্থার কোনও বদল হয়নি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকেন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়কে। এই বিশয়ে কিছুটা ভিন্ন মত রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির বিষয়ে। বিজেপির বিরুদ্ধে আবার মুসলিম বিরোধী একটা তকমা রয়েছে। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং ২০০২ সালের গোধরা কাণ্ডের পরে সেই দাবি আরও জোরাল হয়। গত দুই বছরে উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালে সেই দাবি আরও প্রকট রূপ পেয়েছে।
এই অবস্থায় নয়া তত্ত্ব নিয়ে এলেন বিজেপি নেতা কেএস এসওয়ারাপ্পা। কর্ণাটকের এই বিজেপি নেতা নিজেদের দলের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরোধের তত্ত্ব মেনে নিয়েও সম্পর্ক মধুর করার নতুন উপায় বাতলেছেন।
সোমবার দ্রাবিড়ভূমি কর্ণাটকের কোপ্পাল এলাকায় একটি কর্মিসভায় হাজির ছিলেন কেএস এসওয়ারাপ্পা। স্থানীয় কুরুবা এবং সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে সেই কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। সেই কর্মিসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেএস এসওয়ারাপ্পা বলেন, “কংগ্রেস আপনাদের(মুসলিম) কেবলমাত্র ভোত ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে গিয়েছে। কখনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয়নি।”
কংগ্রেস ভোত ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে মুসিলমদের। সেই কারণে ভোট নিলেও কখনও কোনও মুসলিমকে প্রার্থী করেনি। বিজেপি নেতা কেএস এসওয়ারাপ্পা-এর এই দাবি মেনে নিলেও প্রশ্ন ওঠে মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে বিজেপির অবস্থান নিয়ে। কর্ণাটকে বিজেপি মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে কী? খুব স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নের ইতিব্যাক উত্তর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু কেন দেওয়া হয়নি সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন কেএস এসওয়ারাপ্পা। তাঁর কথায়, “আমরা মুসলিমদের নির্বাচনে টিকিট দিইনি কারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা আমাদের বিশ্বাস করে না। আমাদের উপর বিশ্বাস এবং ভরসা রাখলে শুধু টিকিট কেন সব রকমের সুবিধা দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বিজেপি এবার বাংলায় মুসলিম মহিলা প্রার্থী দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে৷ জঙ্গিপুর লোকসভা থেকে বিজেপির হয়ে লড়বেন মাফুজা খাতুন৷ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন কংগ্রেসের অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, সিপিএমের জুলফিকার আলি, তৃণমুলের খালিদুর রহমান৷ এই লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার হল সংখ্যালঘু৷
প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক মাফুজা খাতুন৷ বছর দুই আগে বিজেপিতে যোগ দেন৷ কারণ তিন তালাকে সিপিএমের অবস্থানের বিরোধিতা করে তিনি দল ত্যাগ করেন৷ ২০০১ ও ২০০৬ বিধানসভা ভোটে সিপিএমের হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ আসনে জয়লাভ করেন তিনি৷



