
আরো বিপাকে মমতাশিবির
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মসনদ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস টিএসসি। একের পর এক নেতাদের দলত্যাগে বিপাকে পড়েছে টানা পনেরো বছর রাজ্য শাসন করা দলটি।
ঋতব্রত, সন্দীপন, ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানদের পর এবার দলীয় রাজ্য সভাপতিসহ সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৷ ভোটে হারার পর তাঁকে রাজ্য সভাপতি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা আঠেরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিএসসি সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক চিঠির মাধ্যম দলের সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চিঠিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত ৩ জুন যে পদে তাঁকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
তিনি আরো জানিয়েছেন, তৃণমূল এবং বিভিন্ন শাখা সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাংকে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার সিগনেটরির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন ৷
তবে ইস্তফার কোনো কারণ উল্লেখ করেননি টিএসসির সাবেক এই মন্ত্রী। শুধু কোন কোন দায়িত্ব ছাড়লেন, তা-ই উল্লেখ করেছেন তিনি।
চন্দ্রিমা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিতে চেয়ারপারসন হিসেবেও উল্লেখ করেননি একদার মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী৷
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নব্য গোষ্ঠী—অর্থাৎ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন চন্দ্রিমার পুত্র সৌরভ বসু। এবার কী মমতাকে ছেড়ে বিদ্রোহী পন্থী তৃণমূলের দলে ভিড়বেন কি না; তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কিছুটা।
সৌরভের কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছেড়ে নব্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছিল। এবার চন্দ্রিমার ইস্তফার পর ফের সেই প্রশ্ন আবার উঠেছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের দখল নিয়েছে ঋতপন্থী নব্য তৃণমূল। বাইপাসের ধারের অফিস হাতছাড়া হলো কালীঘাট তৃণমূলের। তৃণমূল ভবনের কার্যালয়ে নতুন ব্যানার বসেছে, যেখানে চেয়ারপারসন হিসেবে রয়েছে অরূপ রায়ের নাম, নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম, ছবিও।



