
‘গুণ্ডা দমন’ আইন আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কী আছে এতে
পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রাজ্য বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল। সরকারের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার নয়; অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
তার ভাষায়, ‘রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
এই বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এমন কোনো কাজ যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে কিংবা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি, বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি এবং অবৈধ খনন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধও এই আইনের আওতায় পড়বে।
বিলে কে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন—তা’ও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজে অথবা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, দল বা গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, অন্যকে উৎসাহ দেন, অর্থায়ন করেন অথবা সহযোগিতা করেন, তাহলে তাকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে।
এ ছাড়া অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এই আইন প্রয়োগ করা যাবে।
আইন অনুযায়ী সমাজের জন্য বিপজ্জনক ও দুর্ধর্ষ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়বেন।
আটকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে হলে জেলা পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। গত সাত বছরের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অন্তত একবার কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকলে অথবা একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অন্তত তিনটি পৃথক মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত থাকলেও তাকে আটক করার বিধান রাখা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, আটকের পর বিষয়টি একটি উপদেষ্টা বোর্ড পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তি চাইলে তার বক্তব্যও উপস্থাপন করতে পারবেন। এই আইনের অধীন অপরাধগুলোকে জামিন অযোগ্য এবং সরাসরি গ্রেফতারযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অভিযুক্তকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সরকারের দাবি, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও কঠোর আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিদ্যমান আইনেও সংশোধন আনার প্রস্তাব আজ বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে।
তবে বিরোধী দলগুলোর একাংশ এরইমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই আইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও সরকারের দাবি, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে নয়; কেবল সংগঠিত অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনেই এই আইন প্রয়োগ করা হবে।



